তালিবানের হুমকি উপেক্ষা করে তিনি মেয়েদের পড়াবেনই , এক আফগান বাবার লড়াইকে কুর্নিশ নেটিজেনদের

ওয়েবডেস্ক: নারীশিক্ষার নিরিখে যে দেশ অনেকটাই পিছিয়ে সেই আফগানিস্তানেই রয়েছেন এক মিয়া খান, যিনি ঠিকই করে রেখেছেন তাঁর মেয়েদের ডাক্তার বানাবেনই। আর তাই প্রতি দিন মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিতে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি।

কিন্তু ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সন্তানদের স্কুলে তো কত বাবা-মাই পৌঁছে দেন, তা হলে মিয়া খানের কীর্তি অনন্য কেন?

আসলে এই আফগানিস্তানেই রয়েছে তালিবানের চোখরাঙানি। মেয়েদের কোনো ভাবেই স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করানো যাবে না। আর যদি তেমনটা হয়, তা হলে মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো, এখানকার মেয়েদের দিকেও ধেয়ে আসতে পারে একের পর এক গুলি।

এই সব বাধাবিপত্তিকে উপেক্ষা করেই নিজের লক্ষ্যে স্থির মিয়া। এই প্রসঙ্গে মিয়া বলেন, “আমাদের গ্রামে কোনো মহিলা ডাক্তার নেই। আমি নিজে অশিক্ষিত, দিনমজুরি খাটি। মেয়েদের শিক্ষা দেওয়াটা ভীষণ জরুরি বলে মনে করি।”

#16DaysOfActivisimA father who considers educating his daughters a dutyA resident of central Sharana of Paktika…

Posted by Swedish Committee for Afghanistan on Monday, 2 December 2019

আরও পড়ুন দ্বিতীয় দফার ভোটে আজ ঝাড়খণ্ডে দুই হেভিওয়েটের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস

প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ উজিয়ে সুইস এনজিও পরিচালিত নূরিয়া স্কুলে মেয়েদের নিয়ে আসেন মিয়া। আর পঠনপাঠন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠায় স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে একজন, রোজি বলে, “পড়াশোনা করতে পারায় ভীষণ খুশি। কখনও বাবা কখনও দাদা অতটা পথ পেরিয়ে আমাদের স্কুল থেকে নিয়ে যায়। আমাদের জন্য ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের।”

তালিবানের ফতেয়া উপেক্ষা করে মিয়ার স্বপ্নপূরণের লড়াইও অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এখন এই পিতৃবন্দনায় মেতেছেন নেটিজেনরা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.