নাম বদল করে দক্ষিণ আফ্রিকা কি ‘আজিনিয়া’ হবে?

0
473

প্রিটোরিয়া: দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, বেচুয়ানাল্যান্ড, পূর্ব আফ্রিকা, রোডেশিয়ার পর এ বার কি দক্ষিণ আফ্রিকার পালা? সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত এখনও না নেওয়া হলেও একটা ইঙ্গিত কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে।

ঔপনিবেশিক শক্তিরা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও এখনও কেন তাদের দেওয়া নাম বহন করবে দেশ, এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতিমন্ত্রী নাথি থেথওয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন এক নাগরিক। এই নাগরিকের দাবি ছিল ‘দক্ষিণ আফ্রিকা’ নামটি তাদের ঔপনিবেশিক যুগকে মনে করিয়ে দেয়। এর পরিবর্তন দরকার। দেশের চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন একটি নাম দেওয়া হোক। মন্ত্রী পুরোপুরি ওই ব্যক্তির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন।

আদতে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি আঞ্চলিক নাম। ব্রিটিশরা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত চারটে অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ করে নাম দিয়েছিল ‘ইউনিয়ন অফ সাউথ আফ্রিকা’। এর পর ১৯৬১ সালে তা পরিবর্তন করে নাম দেওয়া হয় ‘রিপাবলিক অফ সাউথ আফ্রিকা।’

ওই মন্ত্রীর মতে, “ভৌগোলিক ভাবে আমরা কোথায় রয়েছি, দক্ষিণ আফ্রিকা নামটি সেটাই বোঝায়।” তিনি আরও আগ্রাসী ভাবে বলেন যে আদতে তাঁদের দেশের কোনো নামই নেই। যদিও বর্ণবিদ্বেষ-পরবর্তী যুগ থেকে অনেক বার অনেক কিছুরই নাম বদল করা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ঔপনিবেশিক নাম থাকা রাস্তা, শহর এমনকি প্রদেশের নামও বদল করা হয়েছে। তবে কখনওই দেশের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হয়নি।

বর্ণবিদ্বেষী যুগের সময়ে দু’টি রাজনৈতিক দল, প্যান আফ্রিকানিস্ট কংগ্রেস এবং আজোপো, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘আজানিয়া’ বলে ডাকত। রাজনীতিকদের মতে দক্ষিণ আফ্রিকার একদম দক্ষিণ বিন্দুকে ‘আজানিয়া’ বলা হয়। মন্ত্রীর এই নাম বদলের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে এই দু’টি রাজনৈতিক দল এবং ‘আজানিয়া’ নামটাই ফিরিয়ে আনার দাবি করছে তারা। উল্লেখ্য ঔপনিবেশিক শক্তির বিদায়ের পর নাম বদল করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা (বর্তমানে নামিবিয়া), রোডেশিয়া (বর্তমানে জিম্বাবোয়ে), পূর্ব আফ্রিকা (বর্তমানে মোজাম্বিক) এবং বেচুয়ানাল্যান্ড (বর্তমানে বোৎসওয়ানা)।

তবে দেশের বর্তমান শাসক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এই ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট মত জানায়নি। দলের মুখপাত্র জিজি কোডোয়া বলেন, দেশের নাম বদলের দাবি সরকারি ভাবে যদি তাদের কাছে এসে পৌঁছোয়, তা হলে বিবেচনা করে দেখা হবে। তবে নাম বদলের পক্ষে যেমন মত রয়েছে, বদলের বিপক্ষেও মত রয়েছে।

বিরোধী দলগুলির মতে, দেশের নাম বদলানো অনেক ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার। সেই সঙ্গে অনেক সমস্যারও সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গরা এ রকম সিদ্ধান্ত আদৌ মেনে নেবেন কি না, সেটাও দেখার।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here