srilanka lTTE

জাফনা (শ্রীলঙ্কা): “যদি বাঁচতে হয়, তা হলে এলটিটিইকে ফিরিয়ে আনুন” – শ্রীলঙ্কার এক মন্ত্রীর এ হেন মন্তব্যের পরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এক দিকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করতে শুরু করেছে বিরোধীরা। অন্য দিকে মন্ত্রীর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শ্রীলঙ্কায় তামিলদের ওপরে অত্যাচার এখনও অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার শ্রীলঙ্কার তামিল অধ্যুষিত জাফনায় একটি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন বর্তমান শাসক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির মন্ত্রী বিজয়কলা মহেশ্বরণ। সেখানে তিনি দাবি করেন, এলটিটিই যতদিন ছিল, উত্তর শ্রীলঙ্কায় যথেষ্ট শান্তি ছিল। বর্তমানে সেখানে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, বাড়ছে অপরাধ, বাড়ছে অত্যাচারও।

সভায় তিনি বলেন, “২০০৯-এর ১৮ মে’র আগে আমরা কেমন ছিলাম সেটা মনে করুন। এখন আমাদের যা অবস্থা হয়েছে তাতে এলটিটিইকে ফিরিয়ে আনায় আমাদের কর্তব্য। এলটিটিই ফিরে এলে আমরা স্বাধীন ভাবে বাঁচব, বাচ্চারা ঠিকঠাক পড়াশোনা করতে পারবে, স্কুলে যেতে পারবে।”

কিছু দিন আগেই জাফনার এক ছ’ বছরের তামিল বালিকা ধর্ষিতা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী মন্তব্য করেন মৈথিরাপলী সিরিসেনাকে তাঁরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে খুব ভুল কাজ করেছেন।

শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকার তামিলদের জন্য শুধু একটাই ভালো কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন মহেশ্বরণ। তিনি বলেন, “আমাদের অঞ্চলে কী উন্নয়ন হয়েছে আমরা নিজেও জানি না। শুধু একটা জিনিস ভালো করেছে যে আমাদের জমি আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। এর বাইরে আর কিছুই করেনি।” মহেশ্বরণের দাবি, এলটিটিই যখন আলাদা ভাবে নিজেদের মতো করে উত্তর শ্রীলঙ্কায় প্রশাসন চালাত, তখন এই অঞ্চলে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেনি।

মহেশ্বরণের এই মন্তব্যে শ্রীলঙ্কার সাংসদে তুমুল হৈহট্টগোল হয়েছে। তামিলদের ওপরে অত্যাচারের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই ওঠে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে। মন্ত্রীর বক্তব্য এবং সাংসদদের হট্টগোল কি ওই অভিযোগের সত্যতাই প্রমাণ করছে?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here