balochistan pakistan election rally

কোয়েটা: পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তত বেড়ে চলেছে আত্মঘাতী হামলা। শুক্রবার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সব থেকে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাক্ষী থাকল পাকিস্তান। একটি নির্বাচনী প্রচারসভায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২৮ জনের। আহত হয়েছেন আরও অন্তত দেড়শো।

গত কয়েক মাস ধরে জঙ্গি হামলা কিছুটা কমেছিল পাকিস্তানে। কিন্তু নির্বাচন আসতেই ফের তা মাথাচাড়া দিতে শুরু করল। শুক্রবার বিস্ফোরণটি ঘটেছে বালুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার কাছে মাসতুং শহরে।

বিস্ফোরণের সময়ে নির্বাচনী সভা চলছিল সদ্য গঠিত বালুচিস্তান আওয়ামি পার্টির। সেখানে বক্তব্য রাখার কথা ছিল দলের প্রার্থী সিরাজ রাইসানির। কিন্তু এই বিস্ফোরণের ফলে তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। কিছু দিন আগেই পেশোয়ারে বামপন্থী দল আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টির সভাতেও বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল জঙ্গিরা। মৃত্যু হয়েছিল দলীয় প্রার্থীর।

বিস্ফোরণটির প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আতা উল্লাহ বলেন, “ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে মানুষের দেহের অংশবিশেষ। বাতাসে পোড়া মাংসের গন্ধ। চারিদিকে আহত মানুষের আর্তনাদ।”

এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে আইএসের প্রভাব কিছুটা কমেছিল সেই দেশে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বালুচিস্তানের একটি সুফি স্থানে আইএস হামলায় মৃত্যু হয়েছিল কমপক্ষে ৯০ জনের। পাকিস্তান সরকারের দাবি ছিল গত কয়েক মাসে আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দেওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত হয়েছে পাকিস্তানের।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানে তৃণমূল স্তরে যে চরমপন্থা রয়েছে, সেটা নির্মূল করা না গেলে এ ভাবে জঙ্গি হামলা ঘটতেই থাকবে। এই বিস্ফোরণটির কয়েক ঘণ্টা আগে আরও একটি ছোটো মাপের বিস্ফোরণ হয় আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া বান্নু অঞ্চলে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় চারজনের। আহত হন ৩৯।

এই মুহূর্তে পাক প্রশাসনের সব থেকে বড়ো চিন্তা ভালোয় ভালোয় ২৫ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচন উতরে দেওয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন