টাইফুনের জন্য কুখ্যাত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ান। বছরে একাধিক বার টাইফুনের কবলে পড়ে এই দেশটির বিভিন্ন অংশ। কিন্তু বুধবার তাইওয়ানের দক্ষিণ উপকূলে যা হল, তা গত ২১ বছরে সব থেকে ভয়াবহ। টাইফুন মেরান্তির তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেল দেশের দক্ষিণ প্রান্ত। এ ধরনের শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় সারা বিশ্বে খুব কমই দেখা গেছে।

তবে মেরান্তি কিন্তু তাইওয়ানে সরাসরি আছড়ে পড়েনি, তার ডানার ঝাপটা দিয়েছে শুধু। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় দেশের দক্ষিণতম শহর হেংচুং-এর ৯০ কিমি দূর দিয়ে বেরিয়ে যায় মেরান্তি। সরাসরি আছাড় না হানলেও সেই সময় হেংচুন-এ হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩৭০ কিমি। গত ২১ বছরে এরকম হাওয়ার গতিবেগ দেখেনি তাইওয়ানের কোনও অঞ্চল। আর হেংচুং শহরের ক্ষেত্রে হাওয়ার এই গতিবেগ ছিল গত ১২০ বছরে সর্বোচ্চ। এখানে বলে রাখা ভালো ১৯৯৯ সালে যে সুপার সাইক্লোনের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ওড়িশার পারাদ্বীপ, তার সর্বোচ্চ হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি।

ঝড়ের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাইওয়ানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কেন্টিং। ঝড়ের ফলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ তাইওয়ানের একটা বিরাট অংশের বিদ্যুৎ পরিষেবা। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, তো কথাও গাছ ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের তারের ওপর। প্রায় তিন লক্ষ ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন। তবে ঝড়ের আশঙ্কায় প্রশাসন আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় দেশে কোনও প্রানহানি ঘটেনি। 

মেরান্তির অভিমুখ এখন চিনের দিকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার চিনের পূর্ব গুয়াংডং-এ আরও শক্তি বাড়িয়ে আঘাত আনবে সে। শেষ মুহূর্তে যদি অঘটন ঘটিয়ে শক্তিক্ষয় না করে সে তাহলে মেরান্তিই হবে গত ৪৭ বছরে চিনের উপকূলে আঘাত হানা সব থেকে ভয়াবহ টাইফুন। ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। উপকূলবর্তী অঞ্চলে থাকা মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি সাংহাইতেও সতর্কতা জারি করেছে চিন সরকার।   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here