swiss village

ওয়েবডেস্ক: প্রকৃতি এখানে উজাড় করে দিয়েছে নিজেকে। আকাশছোঁয়া পাহাড়ের ঘেরাটোপে মাথার উপরে জেগে রয়েছে ঝকঝকে নীল আকাশ। শীতল হাওয়া বয়ে চলেছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে। এমন পরিবেশে থাকতে কার না মন চায়! বিশেষ করে থাকলেই যদি মেলে ভারতীয় মুদ্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা!

আশ্চর্য লাগলেও সুইজারল্যান্ডের আলবিনেন গ্রামমণ্ডলী তেমন প্রস্তাবই পৌঁছে দিচ্ছে সবার কাছে। এই গ্রামে এসে থাকলেই পাওয়া যাবে ৪৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু কেন?

আসলে প্রকৃতি যতই মনোরম হোক না কেন, তাকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার মতো মানুষ দ্রুত কমে যাচ্ছে গ্রামে। উঁহু, কোনো মারণ ব্যাধি এর জন্য দায়ী নয়। নিতান্তই কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন আবাসিকরা।

আর তাতেই দেখা দিয়েছে মহা সংকট! বন্ধ হয়ে গিয়েছে গ্রামের বিদ্যালয়টি। মাথায় উঠেছে গ্রামের দোকানপাটের কেনাকাটা। দিন দিন প্রাণহীন, শ্রীহীন হয়ে পড়ছে আলবিনেন।

এই সমস্যার মোকাবিলার জন্য এ বার ঘুরে দাঁড়িয়েছে গ্রামমণ্ডলী। সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা – এখানে এসে থাকলে পরিবারপিছু দেওয়া হবে ৪৬ লক্ষ টাকা। তবে এই টাকা পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে বই-কি!

আলবিনেন গ্রামমণ্ডলী জানিয়েছে, এই টাকাটা পাওয়ার জন্য ১০ বছর একটানা থাকতেই হবে গ্রামে। তার আগে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে টাকাটা ফেরত দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, পরিবারের পুরুষ আর নারীর বয়স ৪৫ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। সঙ্গে থাকতে হবে দু’টি সন্তানও। তা হলেই বয়স্কদের জন্য ভারতীয় মুদ্রায় মাথাপিছু ১৬.৪ লক্ষ এবং শিশুদের জন্য মাথাপিছু ৬.৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন হল- এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ভার আদৌ টানতে পারবে তো আলবিনেন? ভারতীয় মুদ্রায় অঙ্কটা লক্ষের ঘরে পৌঁছলেও সুইজারল্যান্ডের মুদ্রার হিসেবেও অঙ্কটা হেলাফেলার নয়। বয়স্ক এবং শিশু পিছু যথাক্রমে ২৫,০০০ এবং ১০,০০০ ফ্রাঁ!

গ্রামমণ্ডলী জানিয়েছে, সব দিক ভেবেচিন্তেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্থব্যয়ে গ্রামের লাভ বই ক্ষতি নেই! গ্রামের লাভ হবে ওই পরিবারগুলির বাড়ির কর থেকে, বাড়ি তৈরির মালমশলা আর মিস্ত্রিদের মজুরি থেকে। পাশাপাশি, গ্রামের দোকানপাটে শুরু হবে আগের মতো কেনাকাটার জোয়ার। খুলবে বিদ্যালয়টিও, কচিকাঁচাদের কলরবে হেসে উঠবে আলবিনেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here