৬ মাস মেসেজের উত্তর দেননি স্বামী, মহিলার বিচ্ছেদের আবেদন মানল আদালত

0
715

ওয়েবডেস্ক: ভারতের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন বা এই অ্যাপের সঙ্গে পরিচিত। এই ধরনের মেসেজিং অ্যাপ পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি আছে। এশিয়ার বহু দেশে এরকমই একটি অ্যাপ জনপ্রিয়। লাইন। এই অ্যাপগুলির বিশেষত্ব হল, যাকে বার্তাটি পাঠানো হচ্ছে, তিনি সেটি পড়লে বার্তাটির নীচে দুটি নীল দাগ আসে। যাকে ইংরাজিতে বলে ‘ব্লু টিকিং’।

তাইওয়ানের এক মহিলা ওই লাইন অ্যাপটি নিয়েই বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অ্যাপে প্রমাণ দেখা গেছে টানা ৬ মাস ধরে ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে যত মেসেজ পাঠিয়েছেন, সবগুলিই ওই ব্যক্তি পড়েছেন(অর্থাৎ মেসেজে ‘ব্লু টিকিং’ আছে), কিন্তু তিনি কোনোটিরই উত্তর দেননি। ওই অ্যাপে পাঠানো মেসেজগুলিকে প্রামাণ্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন বিচারক। মহিলার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনও মেনে নিয়েছেন। বিচারক বলেছেন, ৬ মাস ধরে পাঠানো বার্তাগুলি পড়েও স্বামীর উত্তর না দেওয়া দেখে বোঝা যায়, এই দাম্পত্য সম্পর্কটি যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তা ‘পুনর্স্থাপন অসম্ভব’।

আরও পড়ুন: হাড় কাঁপানো ঠান্ডা জলের হ্রদে নগ্ন-স্নান ৭৮৯ জনের, বিশ্বরেকর্ড ফিনল্যান্ডে

এই ৬ মাসের মধ্যে একবার দুর্ঘটনার কবলেও পড়েন ওই মহিলা। সেই কথা মেসেজে জানালেও কোনো উত্তর দেননি স্বামী। যদিও বেশ কিছুদিন পর হাসপাতালে দেখতে আসেন স্ত্রীকে। পরে একটি বার্তা পাঠান, যাতে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাওয়া হয়নি। বরং বাড়ির পোষা কুকুরটি সম্পর্কে কিছু কথা বলা হয়েছে।

তবে শুধু মেসেজ নয়, অন্য নানা দিক থেকেও দাম্পত্য সম্পর্কটি সমস্যার মধ্যে ছিল। ২০১২ সালে বিয়ে হয় ওই দু’জনের। মহিলার বয়স পঞ্চাশের কোঠায়, পুরুষটির বয়স চল্লিশের কোঠায়। শ্বশুরবাড়িতে নানা সমস্যার মধ্যে থাকতে হত মহিলাকে। তাঁর স্বামীর কোনো স্থায়ী উপার্জনও নেই। ফলে স্বামীর পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও তাঁকেই বহন করতে হত।

তবে ওই মহিলা ও পুরুষটির সম্পর্কের অবনতির চেয়েও বড়ো কথা আদালতে মেসেজিং অ্যাপটিকে প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করা। বিচারক বলেছেন, “আগে যেমন লিখিত নথিই কেবল প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য হত। আজ আর সেদিন নেই। মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার যে পরিমাণ বেড়েছে, তাতে এই অ্যাপগুলিকেও প্রামাণ্য হিসেবে মানতে হবে”।

মামলা চলাকালীন একবারও আদালতে হাজিরা দেননি মহিলার স্বামী। আদালত থেকে তাঁকে বেশ কয়েকবার ডাকা হয়েছে। তবে সেই সব ডাকই ছিল চিঠিতে লিখিত। ফলে মেসেজিং অ্যাপে যেমন নীল দাগ দেখে বোঝা গেছে, তিনি সেগুলি পড়েছিলেন, এক্ষেত্রে তিনি আদালতের চিঠিগুলি আদৌ পড়েছিলেন কি না, তা বোঝার উপায় নেই।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here