১৩,২৭৫ বছর হাজতবাসের সাজা কয়েদিকে! কী ভাবে সম্ভব হবে তা?

0

ওয়েবডেস্ক: দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীকে গরাদের ও-পারে পাঠিয়ে দেওয়াই নিয়ম! এই ব্যাপারে পৃথিবীর সব দেশ এক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে থাকে!

তা বলে ১৩,২৭৫ বছর হাজতবাসের সাজা? এমনটা কি কখনও কেউ শুনেছেন? না কি এই শাস্তির বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব?

সে সব বিতর্কের উত্তর একমাত্র দিতে পারে থাইল্যান্ডের বিচারব্যবস্থা। সম্প্রতি এক প্রতারককে এই মাত্রায় বিপুল পরিমাণে হাজতবাসের শাস্তিই যে দেওয়া হয়েছে সেখানে!

জানা গিয়েছে, বছর ৩৪-এর পুডিট কিট্টিথ্রাডিলক চলতি বছরের অগস্ট মাস থেকেই রয়েছে কারাগারে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগটি বেশ গুরুতর যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৪০,০০০ পরিবার এবং ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের মতো সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার!

কী ভাবে এই পরিবারগুলোকে প্রতারিত করত পুডিট?

থাই পুলিশ জানিয়েছে, আমাদের দেশে যেমন চিট ফান্ডের ব্যবসা চলে, ঠিক সেরকম ব্যবসাই ওদেশে ফেঁদে বসেছিল পুডিট। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জনতাকে, তার দুই সংস্থায় লগ্নি করলে অর্থপ্রাপ্তি হবে দ্বিগুন বা তারও বেশি! বক্তব্যকে জোরদার করার জন্য এবং সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য থাইল্যান্ডের নানা স্থানে ঘুরে ঘুরে সভা করত সে। পরিণামে, তার ফাঁদে পা দিতেন বহু ব্যক্তি- ধনী থেকে নির্ধন সকলেই রয়েছেন এই তালিকায়। এ ভাবেই প্রায় ৪০,০০০ পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ নিজের পকেটে ভরে পুডিট! এ ছাড়াও ঋণ দেওয়ার ব্যবসা তো ছিলই!

কিন্তু, ধর্মের কল তো বাতাসে নড়ে! অতএব, এই ব্যবসা পুলিশের নজরে আসতে বেশি দিন সময় লাগেনি। তার পরেই শুরু হয় তদন্ত, তার জেরে কার্যালয় তল্লাশি এবং অবশেষে পুডিটকে গ্রেফতার! গত অগস্ট মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ব্যাংকক রিমান্ড প্রিজনেই রয়েছে সে! জামিনের অনুমতি আদালত তাঁকে দেয়নি।

তবে, বিপদ বুঝে সব অপরাধ ভালোমানুষের মতো স্বীকার করে নিতে দেরি করেনি পুডিট। কেন না, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে তার ২,৬৫৩টি প্রতারণার ঘটনা। বাকিগুলি এখনও বিচারাধীন। এই সত্যবাদিতার জন্য আদালত অবশ্য তার অপরাধ কিছুটা মকুব করে দিতে পিছ-পা হয়নি! অর্থাৎ, কমেছে ১৩,২৭৫ বছরের কারাবাসের মেয়াদ!

তা বলে কমে যে অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে কারাবাসের, তাও কিছু কম অদ্ভুত নয়! এবার পরিবর্তনের পরে পুডিটের ভাগ্যে কারাবাস বরাদ্দ হয়েছে ৬,৬৩৭ বছরের!

আর তার পরিণামে প্রশ্নরা ক্রমাগত মাথা চাড়া দিয়েই চলেছে! এত বছর তো মানুষের জীবনের মেয়াদ হয় না। সে ক্ষেত্রে এই কারাবাস সম্পন্ন করবে কী করে পুডিট?

অনেকে যদিও বলছেন, একে বিচারব্যবস্থার খামখেয়ালিপনা বলা উচিত হবে না! এ আসলে আক্ষরিক অর্থেই যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি! যার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনোই উপায় নেই।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন