ওয়াশিংটন : ফুরিয়ে গেল প্রায় দেড়শ বছরের পথ চলা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৬ বছরের সব চেয়ে জনপ্রিয় রিংলিং ব্রস সার্কাসের পথ চলা থামছে কয়েক মাসের মধ্যেই — এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছিল জানুয়ারিতেই। সেই সময় কোম্পানির সিইও কেনেথ ফেল্ড সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলে দিয়েছিলেন, ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর শেষ প্রদর্শনী হবে চলতি বছরের মে মাসে। আর সেই কথা অনুযায়ীই গত রবিবার শেষ প্রদর্শনীটি করল এই সার্কাস কোম্পানি।

শেষ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল ফেল্ড পরিবারের সদস্যদের দিয়ে। ফেল্ডরা কলাকুশলী, কর্মী আর দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। কেনেথ ফেল্ড বলেন, তাঁদের এত বছরের লক্ষ্য একটাই ছিল –মানুষকে আনন্দ দেওয়া, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। এ দিন শেষ শোটি করার জন্য কোম্পানির ১৯৮০ সালের ইলেক্ট্রিশিয়ান জন ডেভিসও লস অ্যাঞ্জলস থেকে এসেছিলেন। জন ডেভিস বলেন, এক বার এই কাজের অভ্যাস হয়ে গেলে আর কোনো দিন তা ভোলা বা ছাড়া যায় না, যত দিন না পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছ।

আরও পড়ুন : দিন ফুরলো ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর, বন্ধ হচ্ছে ১৪৬ বছরের মার্কিন সার্কাস

দর্শকের মধ্যে অনেকেই শেষ দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে এসেছিলেন শো দেখতে। তাঁদের এক জন জানান, তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে এসেছেন এই ‘গ্রেটেস্ট শো’-এর সাক্ষী করে রাখতে।

উল্লেখ্য বন্য প্রাণীর অধিকার নিয়ে সরব, এমন সংস্থার সঙ্গে বেশ কয়েক বছর আইনি লড়াই চালানোর পর গত বছর মে মাসে হাতির খেলা দেখানো বন্ধ করেন সার্কাস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তার পরও চলতে থাকে লড়াই। পশুপ্রেমী সংস্থাগুলি পশুদের খেলা বন্ধ করে দিতে চায়। এই চাপ ছাড়াও ছিল পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির অবনতি। কম ছিল টিকিট বিক্রির পরিমাণ। ফলে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, সার্কাস চালানোর খরচটুকুও উঠছিল না। তাই অবশেষে এক প্রকার বাধ্য হয়েই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বন্ধ করে দিতে হল কোম্পানিকে।

কিন্তু পশু প্রেমীরা বলেন, এই শো বন্ধ হওয়া মানে একটা বিশাল যুদ্ধে জয় লাভ করা। এ দিন সার্কাসে তাঁবুর ভেতরে ঢোকার পথে মূল প্রবেশ দ্বারে অসংখ্য পশুপ্রেমী বাঘ-সিংহ সেজে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তাঁদের এক জন ডি লিওনার্দো বলেন, এই সাফল্যটা বিরাট ব্যাপার। কিন্তু এটা ছাড়াও দেশে এমন অনেক সার্কাস কোম্পানি আছে যারা খেলা দেখাতে পশুদের ব্যবহার করে, সেগুলোকে এ বার বন্ধ করতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন