ওয়েবডেস্ক: ইংরেজিতে একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে- ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় সেই প্রবাদকে। জ্যাক রোজের ভালোবাসার আড়ালেই রয়ে গেলেন যে দম্পতি। ইডা স্ট্রস এবং তাঁর স্বামী ইসাডর। ফ্রান্স থেকে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরছিলেন মার্কিন দম্পতি। ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিলের সেই অভিশপ্ত রাতে টাইটানিক যখন ডুবতে শুরু করেছে, ইডা এবং ইসাডর তখন নিজেদের কেবিনে শুয়ে পড়েছেন। এ দিকে জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে উদ্ধার কাজ।  মহিলা এবং শিশুদের তখন জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাইফবোটে। ধনী ঘরে জন্মালে বেঁচে থাকার অধিকার বোধয় সহজাত ভাবেই বেশি থাকে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের চেয়ে। প্রথম শ্রেণির যাত্রী ইডা স্ট্রসেরও তা-ই ছিল। লাইফবোটে আগে থেকেই সংরক্ষিত ছিল তাঁর আসন। ইডা তা প্রত্যাখ্যান করলেন।

ইসাডরকে ছেড়ে যাবেন না ইডা। তাঁর জন্য সংরক্ষিত আসন পেলেন ইডার পরিচারিকা। ”তোমার সাথে থেকেছি, তোমায় ভালোবেসেছি, প্রয়োজনে মরতে হলে তোমার সাথেই মরব”, ঠিক এই কথাগুলোই শোনা গিয়েছিল ৬৩ বছরের ইডার মুখে। ‘এ টাইটানিক লাভস্টোরি’ বই-তে লেখক জুন হল ম্যাক ক্যাশ উল্লেখ করেছিলেন তা। মহিলা এবং শিশুদের লাইফবোটে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হলে এল পুরুষদের পালা। এ ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পেলেন ইসাডর।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাক্তন সদস্য বলে কথা! কিন্তু ইসাডর সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। বললেন জাহাজের অন্য যাত্রীদের আগে উদ্ধার করা হোক।

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রে পর্দা জুড়ে দর্শক দেখেছিল জ্যাক আর রোজের ভালোবাসার গল্প। শ্রেণিবৈষম্য ভুলে জীবনের অন্তিম মুহূর্তে নিজেদের আঁকড়ে ধরে বাঁচতে থুড়ি মরতে চেয়েছিল ওরা। স্পিলবার্গ অবশ্য নিতান্তই ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই বানিয়েছিলেন এই দুই চরিত্র। দর্শককে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘বাস্তবে এ রকম হয় নাকি?’ হয় তো। ৬৭ বছরের ইসাডর আর তাঁর জীবনসঙ্গী ইডাই তো তার প্রমাণ।

১০৫ বছর আগের সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৫০০ মানুষ। ৩০৬টি দেহ উদ্ধার হয়েছিল পরে। এদের মধ্যে ছিল ইসাডরের দেহও। ইডার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি আর কখনও। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওঁদের শেষ বার এক সঙ্গে দেখেছিলেন ডেকের ওপর। একে অপরকে জরিয়ে ধরে নিঃশব্দে কেঁদে চলেছেন ৪১ বছর ধরে হাতে হাত রেখে পথ চলা দু’টো মানুষ।

সব রূপকথায় মিল হয় না। মৃত্যুই বরং মিলিয়ে দেয় ওদের। সাজু-রুপাই চিরকাল পাশাপাশি শুয়ে থাকে নকশিকাঁথার মাঠে। ঠিক তেমনই ইডা আর ইসাডর অতলান্তিকের গভীরে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here