ওয়েবডেস্ক: ঘর পুড়েছে ছাই, কিন্তু মন পোড়ে নাই।

তিনি তখন বাথরুমে। হঠাৎ পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে এলো। দরজা খুলেই হতবাক। আগুন তো ঘরেই। তাও সাংঘাতিক ভাবে। তড়িঘড়ি বেরিয়ে সঙ্গিনী ডেকে তুলেই আগুন নেভানোর চেষ্টা। প্রতিবেশিরাও হাত লাগালেন তাতে। চেষ্টা সফল হল। আগুন নেভানো গেল। কিন্তু  ক্ষয় ক্ষতি যা হল তার পরিমাণ নয় নয় করে প্রায় দেড় হাজার মার্কিন ডলার। বা দশ হাজার ইয়ন। তার পরে মন খারাপ, আতঙ্ক আর মুখ ভার এটাই তো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা। না! সে গুড়ে বালি। উলটে সেলফি, আর ভিডিও। তাও আবার হাসি হাসি মুখে। এ-ও কি সম্ভব? অনেকের মতেই এঁরা হলেন ‘দ্যা ফানিয়েস্ট কাপল ইন হিস্ট্রি’।

হ্যাঁ সেটাই সম্ভব করেছেন এঁরা। চিনের এক দম্পতি। ঝং ছেং আর তাঁর সঙ্গিনী। দক্ষিণ চিনের গুয়াংসি ঝুয়াং প্রদেশের বাসিন্দা এঁরা। গুলিনে একটা নুডলস রেস্তোরাঁর মালিক তাঁরা। ব্যক্তির নাম ঝং ছেং।

তিনি বলেন, জীবনের সব কিছুকে হাসি মুখে মেনে নিতে হয়। তাঁরা এটাই বিশ্বাস করেন। তাই তাঁরা এই ভাবে সবটাকে মেনে নিয়েছেন। মানুষকে সচেতন করাটাও জরুরি। সেলফি তুলে মজা করার সঙ্গে সঙ্গে একটা ভিডিও করেছেন তাঁরা দু’ জনে। তাতে যেমন আছে সকলের জন্য নতুন বছরের শুভেচ্ছা, তেমনই আছে আগুন নিয়ে সচেতনতা। সঙ্গে আগুন লাগলে কী করা উচিত-অনুচিত সেই বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শও।

ঝং বলেন, এখানে শীতের দিনে হিটার খুব ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হয়। এ দিনও তাঁদের ঘরে এর থেকেই আগুন ধরে ছিল। সেই জন্য বাকিদের সচেতন করাটা কর্তব্য। তাই সে বিষয়েও কিছু কথা আছে ভিডিওতে।

ঝং আর তাঁর সঙ্গিনী ঠিক করেছেন, পুড়ে যাওয়া ঘরটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে সারিয়ে আবার এখানেই বসবাস করবেন।

কথায় কথায় ঝং বলেন, তিনি আর সঙ্গিনী দু’ জনেই খুব আনন্দপ্রিয় আর মজার মানুষ। একটা জন্মদিনের পার্টিতে তাঁদের দেখা হয়। আর একে অপরের এই আমুদে স্বভাবেই আকৃষ্ট হন।

তাঁদের পোড়া ঘরে তোলা সেলফি আর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের রাতারাতি সেলিব্রেটি বানিয়ে দিয়েছে। প্রায় এক কোটি হিট হয়েছে তাঁদের পোস্টে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন