meghan markle and prince harry

ওয়েবডেস্ক: ডিজনি প্রিন্সেস হওয়া আর ব্রিটেনের রাজবধূ হওয়ার মধ্যে কোনো মিলই নেই। এবার তা হাড়েহাড়ে বুঝতে পারছেন মেগান মার্কেল। সেন্ট জর্জস চ্যাপেলে ‘আই ডু’ বলে হ্যারিকে স্বামী হিসেবে বরণ করার পরএ একগাদা বিধিনিষেধ নেমে এসেছে তাঁর জীবনে। দেখে নিন সেগুলো।

১. অটোগ্রাফ নয়- রাজ পরিবারের কেউ কোথাও অটোগ্রাফ দিতে পারেন না। পাছে কেউ সই জাল করে। প্রিন্স চার্লসের কাছে একবার অটোগ্রাফ চাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছিলেন। মেগান অবশ্য ইতিমধ্যেই সে সবে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। গত জানুয়ারিতে একটি অনুষ্ঠানে তাঁর এক দশ বছরের ফ্যান তাঁর কাছে অটোগ্রাফ চান। তিনি নিজের নাম সই না করে লিখে দেন ‘হাই ক্যাটিলিন’।

২. কোনো রাজনীতি নয়- মেগান বরাবরই বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব ও সক্রিয় থেকেছেন। কিন্তু সেদিন শেষ। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী রানিকে অবশ্যই অরাজনৈতিক হতে হবে। তবে এই নিয়ম শুধু রানির জন্য হলেও রাজ পরিবারের সকলেই তা মেনে চলেন। অর্থাৎ কোনো সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার দিন মেগানের ফুরলো।

৩. পা দেখানো চলবে না- হ্যারি ও মেগান যেদিন এনগেজ হলেন, সেদিন সবারই রিং-এর বদলে নজর গিয়ে পড়েছিল মেগানের খোলা পায়ের দিকে। কারণ নিয়ম অনুসারে রাজ পরিবারের কারও খোলা পা দেখানো চলে না। ন্যুড স্টকিংস থাকতেই হবে। মেগান হয়তো তখনও নিয়মা জানতেন না। এখন নিশ্চয় জেনে গেছেন। আশা করা যায়, অন্তত রাজ পরিবারের অনুষ্ঠানগুলিতে তাঁর খোলা পা দেখা যাবে না।

৪. পালটে গেল শোওয়ার সময়- রাজ পরিবারের নৈশভোজ চলে দীর্ঘ সময় জুড়ে। সবাই মিলে অনেকক্ষণ ধরে খেয়ে গল্প করে তারপর শুতে যান। রানি শুতে যাওয়ার আগে শুতে চলে যাওয়াটা তাঁকে অসম্মান করা বলে মনে করা হয়। রাজবধূ ডায়না এই রীতিতে এত বিরক্ত হয়েচিলেন যে, একটা সময়ের পর অনুমতি নিয়ে রানির আগেই নৈশভোজ সেরে উঠে যেতেন। যেটা অত্যন্ত সমালোচনার বিষয় হয়েছিল। মেগান যদি রানি এলিজাবেথের সুনজরে থআকেত চান, তাহলে নিশ্চয় হ্যারির সঙ্গে শোওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না।

৫. অভিনয় জীবন শেষ- রাজ পরিবারে যদি কেউ বিয়ে করেন, তবে তাঁকে তাঁর কেরিয়ার পেছনে ফেলেই যেতে হয়। হলিউড নায়িকা গ্রেস কেলি, মোনাকোর রাজকুমার তৃতীয় রেইনিয়ারকে বিয়ে করার পর অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন। মেগান অবশ্য পরিকল্পনা করে এনগেজমেন্টের আগেই অভিনয় জীবন শেষ করে দিয়েছেন।

৬. একা একা ঘোরা যাবে না- রাজ পরিবারের কেউ একা একা ঘুরতে পারেন না। মেগানের এনগেজমেন্টের দিন সকাল থেকেই তাঁর জন্য নিরাপত্তারক্ষী স্থির হয়ে গেছে। রাজ পরিবারের ভ্রমণ দেখে সবারই মনে হয়ে ‘দুর্দান্ত ব্যাপার, নিশ্চিন্ত বেড়ানো’। কিন্তু প্রতিটি ভ্রমণের জন্য ৬ মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁরা ৪০ মিনিটের বেশি থাকতে পারেন না। পৃথিবার কোনো জায়গায় তাঁরা দ্বিতীয়বার যেতে পারেন না। ভাগ্যিস, হ্যারি-মেগান সত্যিকারের মধুচন্দ্রিমা যাপন করতে পেরেছেন! মানে সর্বক্ষণের নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে যতটা হয় আর কি!!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here