এখন তার বয়স আট। এক বছরে তার জীবন অনেকটাই বদলেছে। আর তা-ও সম্ভব হয়েছে তার ভিনদেশি বাবা-মায়ের জন্যই।

আট বছরের শিশু রায়ান। কিন্তু সে আর পাঁচটা শিশুর মতো শারীরিক আর মানসিক ভাবে স্বাভাবিক নয়। তাকে দেখতে এক-দু’ বছরের শিশুদের মতোই। আচরণও তাদের মতো। চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন এক দম্পতি।

ryan-1

ডেভিড আর প্রিসচিল্লা মোর্সে – তাঁরা মার্কিন দম্পতি। একদিন ফেসবুক পোস্টে রায়ানের ছবি দেখে ঠিক করলেন, তাঁরা তাকে দত্তক নেবেন। রায়ান তখন বুলগেরিয়ার একটি অনাথালয়ে। সেই সময়ে বছর সাতের রায়ানের ওজন মাত্র আট পাউন্ড। মস্তিষ্কে পক্ষাঘাতজনিত অসুখে সে একে বারে অস্বাভাবিক, যাকে বলে সেরিব্রাল পালসি। ক্ষুদ্রাকৃতি, বিকৃত পায়ের রায়ান বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি দেয় মার্কিন দেশে। সেখানে আসার পর তার নতুন চিকিৎসা শুরু হয়। শুরু করা হয় নলের সাহায্যে তাকে খাবার খাওয়ানো। সেখানকার চিকিৎসকরাও ভাবেননি সে বাঁচতে পারে। তবু চেষ্টার কোনো রকম ত্রুটি করা হয়নি।

এক বছর পর। আট বছরের রায়ান এখন ক্রমশ বেড়ে উঠছে। সে অনেকটাই সুস্থ, আগের থেকে স্বাস্থ্যবান। হাত পা নেড়ে খেলা করতেও পারতে সে। তার বাবা-মা খুশি তার এই উন্নতিতে, খুশি সে-ও।

তার মা  প্রিসচিল্লা মোর্সে জানাচ্ছেন, রায়ানকে পেয়ে তাঁদের জগৎটাই বদলে গেছে, খুশিতে ভরে গেছে। খুব সুন্দর অনুভূতি হয় তাঁর। রায়ান অসাধারণ। তিনি বলেন, শিশুদের বিশেষ ভাবে যত্ন করতে হয়, তারাই তো সম্পদ। এই কাজটা কঠিন। কিন্তু তিনি জানতেন, জীবনে সবটাই সহজ হয় না। জীবন যা কিছু দেয় তার সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হয়। তা যত কঠিনই হোক না কেন। তাই তাঁরাও মানিয়ে নিয়েছেন। এখন এটাই তাঁদের কাছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ryan-2

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here