maldives

ওয়েবডেস্ক: মলদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে নতুন করে আর কীই বা বলার আছে! গুগল করলেই তো নজরে আসে থরে থরে সাজানো সৌন্দর্যের পসরা! সেই সৌন্দর্য রঙের প্লাবন ডেকে আনে। প্রকৃতি এখানে পায়ের কাছে স্বচ্ছ নীল জলের গালিচা যেমন বিছিয়ে রেখেছে, তেমনই মাথার উপরে জেগে রয়েছে গাছের সবুজ ঝালর। তারও উপরে সাগরজলের সঙ্গে সঙ্গত করে জেগে রয়েছে আকাশের নীল। দিনের আলোয় নীলে-সবুজে এমনই মোহময় হয়ে ওঠে মলদ্বীপের সমুদ্রতট।

আর দিনের আলো নিভে গেলে?

তখন শুধুই আঁধারে আলোর খেলা! ঠিক যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন ছবিতে। অন্ধকারের চাদর মুড়ি দিয়ে নীল আলো জ্বেলে জেগে থাকে সমুদ্র। তটের বিস্তৃতি যতটা, চওড়ায় প্রায় ততটা জুড়েই ছড়িয়ে থাকে সাগরের এই নীল আলোর মালা।

তা বলে ভাববেন না যেন, এই আলোর পিছনে হাত রয়েছে মানুষের! পরিবেশের তোয়াক্কা না করে আদমের কোনো আহাম্মক বংশধর সমুদ্রতটকে ফ্লুরোসেন্ট স্প্রে দিয়ে উজ্জ্বল করে তোলেনি। এ নিখাদ প্রাকৃতিক বিস্ময়। এক আঁজলা জল সমুদ্র থেকে তুলে নিলে দেখবেন, হাতের মুঠোতেও জলে নীল আলো জ্বলছে। উপরের ভিডিওটায় দেখে নিতে পারেন সেই প্রাকৃতিক বিস্ময়ের আসল চেহারা।

কিন্তু ব্যাপারটা কী?

আঁধারে সাগরজলকে এমন ভাবে আলোকিত করে তোলার নেপথ্যে হাত রয়েছে এক শ্রেণির সামুদ্রিক প্রাণীর। অস্ট্রাকড ক্রাস্টাসিয়ানস নামে পরিচিত এই খুদে সাগর-জীবদের জলের জোনাকি বললে ভুল কিছু হয় না। সিড শ্রিম্প বলেও আখ্যা দেওয়া হয় এদের। বড়ো জোর ১ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রাণীদের শরীর থেকেই বিচ্ছুরিত হয় এই অনৈসর্গিক নীল আলো। জোনাকির মতোই তা ক্ষণস্থায়ী হলেও কখনও কখনও এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে এই আলো জ্বলে।

ভিডিওটা দেখে, তথ্যগুলো জেনে মনটা কি মুগ্ধতায় ভরে উঠছে?

বলতেই হচ্ছে, এখানে এসে একটা খারাপ খবর রয়েছে আপনার জন্য। এই সিড শ্রিম্পদের শরীর থেকে একমাত্র তখনই আলোক বিচ্ছুরণ হয়, যখন তারা তটের খুব কাছে চলে আসে। তটের বালির সঙ্গে ঘষা খেয়েই তাদের শরীর আলোকিত হয়ে ওঠে যা অপূর্ব ব্যঞ্জনার আলোকলহরী তোলে তট আর জলের সীমারেখায়। মানে, এই যে দেখছেন আলোর বাহার, এ আদতে বিশাল এক ঝাঁক সিড শ্রিম্পের ম‌ৃত্যুবরণ! জলের জীব কি আর স্থলে বাঁচে? কিন্তু মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও তারা জগতকে আনন্দ দিতে ভোলে না।

মলদ্বীপের বেশ কিছু সাগরসৈকত এই জলের জোনাকিদের প্রাণের বিনিময়েই আকর্ষণ করে পর্যটককে। আশ্চর্য কী, আলোকিত জলতরঙ্গ যে বড়ো একটা সুলভ নয়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here