ভারত ছাড়া যে তিন দেশের চাপের কাছে নতিস্বীকার করল পাকিস্তান

avinandan varthaman
অভিনন্দন বর্তমান।

ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার পর্যন্ত বদলার কথা মুখে বলছিল পাকিস্তান। কিন্তু বুধবার দুপুর থেকে সুর পালটে যায় তাদের। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলোচনার আহ্বান জানান ইমরান খান। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে আরও সুর নরম করে বায়ুসেনার পাইলট উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক চাপ তো পাকিস্তানের ওপরে ছিলই, কিন্তু ভারত ছাড়া মূলত তিন দেশের কূটনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান।

এই তিনটে দেশ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব। এর মধ্যে মূল কাজটি যুক্তরাষ্ট্রই করেছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে হ্যানয়ে এক সাংবাদিক সম্মলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, “ভারত এবং পাকিস্তান থেকে সুখবর আসতে চলেছে। সংঘাত শেষ হওয়ার পথে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে একটা ইঙ্গিত থাকলেও, আসল ব্যাপারটা বোঝা যায়নি। এর ঘণ্টা তিনেক পরেই অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন ইমরান।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আমিরশাহিরও অবদান ছিল যথেষ্ট। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গি হয়েছে আমিরশাহি। বৃহস্পতিবার টুইট করে আমিরশাহির যুবরাজ, শেখ মহম্মদ বিন সঈদ জানান, “ভারত এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে।” আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের কাছে আবেদন করা হয়েছে, এই কথাও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার আবু ধাবিতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সে (ওআইসি) বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এই ব্যাপারটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতদিন পর্যন্ত কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের পাশেই থেকেছে ওআইসি। সুষমা থাকবেন বলে এই কনফারেন্স বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি।

আরও পড়ুন মাসুদ আজহারের ব্যাপারে অবশেষে ঢোক গিলল পাকিস্তান

তিন নম্বর সৌদি আরব। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য জোরদার আওয়াজ তুলেছে এই দেশ। ‘জুবরাজ মহম্মদ বিন সলমানের’ বিশেষ বার্তা দিয়ে শুক্রবারই পাকিস্তানে যাচ্ছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আদল আল জুবের। এই বিশেষ বার্তায় সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করার কথাই বলা হবে ইসলামাবাদকে, এমনই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং রাশিয়ার চাপ তো পাকিস্তানের ওপর ছিলই। এ বার উত্তেজনার কমানোর জন্য ঘুরিয়ে পাকিস্তানকে বার্তা দিয়েছে, তাদের পুরনো সঙ্গি চিনও।

জিনেভা কনভেনশন অনুযায়ী অভিনন্দন বর্তমানকে পাকিস্তানকে ছাড়তেই হত। কিন্তু মনে করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলের এই তুমুল চাপ অগ্রাহ্য করা পাকিস্তানের পক্ষে কার্যত অসম্ভব ছিল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.