Connect with us

দিবস

১৫ আগস্ট মার্কিন মুলুকের টাইম স্কোয়ারে প্রথমবার উড়বে ভারতের তেরঙা

Published

on

খবরঅনলাইন ডেস্ক:  স্বাধীনতা দিবস ভারতের গর্বের দিন। এ বার সেই গর্বের দিনটি উদযাপন করবে মার্কিন মুলুকের নিউ ইয়র্ক শহর। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার আমেরিকার টাইম স্কোয়ারে ভারতীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত জায়গাতে ১৫ আগস্ট ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মান জানানো হয়। তবে আমেরিকাতে এই অনুষ্ঠান হবে প্রথম।

২০২০ সাল বহু ঘটনার নজির গড়েছে। এই বার স্বাধীনতা দিবসেও আমেরিকার নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইম স্কোয়ারে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধযমে গড়বে নয়া ইতিহাস। টাইমস স্কোয়্যার বিশ্বের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। সে দেশের অভিজাত এলাকাও বটে। তেরঙা পতাকা উত্তোলন করবেন সে দেশে বসবাসকারী একদল ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এ দিন টাইমস স্কোয়ারে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেক্টিকাটের দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। তাঁদের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, “১৫ আগস্ট ইতিহাস তৈরি হবে। এই প্রথমবার স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন মুলুকের টাইমস স্কোয়্যারে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।”

সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্কের ভারতীয় কনস্যুলার জেনারেল রণধীর জয়সওয়ালকে। তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ১৪ আগস্ট ভারতীয় পতাকার আদলে আলোর মালায় সেজে উঠবে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংও।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর আমেরিকার ম্যানহাটনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। সেখানে উপস্থিত থাকেন মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা। তবে এই বছরে করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে দেশের বহু আয়োজনও। পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনের দিকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করবে।

কলকাতা

শিক্ষক দিবস ২০২০: শিক্ষক প্রণামে অনলাইনই ভরসা পড়ুয়াদের

পড়ার ব্যাচে শিক্ষককে উপহার দেওয়া হবে না? স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না? সবাই মিলে এক সঙ্গে চেঁচিয়ে ‘হ্যাপি টিচার্স ডে’ বলে ওঠা হবে না? এসব ভেবে মন খারাপ গৃহবন্দি পড়ুয়াদের।

Published

on

teachers-day
ছবি : পিন্টারেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন :আজ শিক্ষক দিবস। তবে বিগত পাঁচ মাস ধরেই বন্ধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তা হলে কী ভাবে পালিত হবে এবারের শিক্ষক দিবস?

পড়ার ব্যাচে শিক্ষককে উপহার দেওয়া হবে না? স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না? সবাই মিলে এক সঙ্গে চেঁচিয়ে ‘হ্যাপি টিচার্স ডে’ বলে ওঠা হবে না? এসব ভেবে মন খারাপ গৃহবন্দি পড়ুয়াদের।

তবে মন খারাপের মাঝেই ৫বছরের ছোট্ট পেখম বানিয়েছে কার্ড। ভিডিওকলেই তাদের বন্ধুরা কার্ড দেখাবে, তাদের শিক্ষিকাকে।

অন্যদিকে ক্যালকাটা পাবলিকের একাদশ শ্রেণির রীতিশা এবং তার কয়েকজন বন্ধু সকালেই উপস্থিত হবে তার শিক্ষকের বাড়ি। তাদের কথায়, ‘‘এটাই আমাদের স্কুলের শেষবার শিক্ষক দিবস, তাই আমরা একবার স্যারের বাড়ি যাবো, কিছু উপকার কিনেছি, কেক কিনেছি’’

বারাসাত গার্লস এর সৃজা জানিয়েছে, ‘‘আমরা সকাল ৮টা থেকে একে একে সবাই মিলে হোয়াটসঅ্যাপে দিদিদের শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা ও প্রণাম জানাবো।’’

টানা পাঁচ মাসে করোনা সম্পর্কে পড়ুয়ারা যথেষ্ট সচেতন হয়েছে। তাদের অধিকাংশই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ভিড় বাড়াতে চায় না।

স্কটিশ চার্চের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া আকাশ জানিয়েছে, ‘‘করোনার কারণে অবশ্যই আমরা স্যারের বাড়ি পৌঁছে ভিড় করবো না, তবে আমরা একটি ওয়েবনারের মাধ্যমে গান, আবৃত্তি এবং অবশ্যই সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণননের জীবনের কিছু বক্তব্য তুলে ধরবো।’’

করোনা আবহে ‘সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং’ যখন দস্তুর। তখন এ বছর অনলাইনকে ভরসা করেই পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস।

Continue Reading

দিবস

শিক্ষক দিবস : জেনে নিন ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দর্শন তাঁর প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল না। বই কেনার টাকা ছিল না রাধাকৃষ্ণনের। কিন্তু সেই সময়েই একই কলেজ থেকে দর্শন নিয়ে স্নাতক হন তাঁর এক দাদা। দাদার বইয়ের জন্যই দর্শনকেই বেছে নেন তিনি।

Published

on

sarvepalli radhakrishnan

খবরঅনলাইন ডেস্ক: শিক্ষক এবং দার্শনিক ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন বিভিন্ন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত, দেশের উপরাষ্ট্রপতি এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। ১৯৬২ সালে প্রথম বার ড. রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়েছিল।

জেনে নেওয়া যাক ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন সম্পর্কে দশটা তথ্য –

১) বর্তমান তামিলনাড়ু এবং তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশের তিরুতান্নিতে এক গরিব ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৮৮৮-এর ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাধাকৃষ্ণন। ছেলে পূজারি হোক, এমনটাই চাইতেন তাঁর বাবা। বাবা কখনোই চাননি ছেলে ইংরেজি পড়ুক। কিন্তু রাধাকৃষ্ণনের জেদে পরাজিত হন তাঁর বাবা। তিরুপতির একটি স্কুলে তাঁকে ভর্তি করা হয়।

মেধাবী ছাত্র রাধাকৃষ্ণন স্কুলজীবনে অসংখ্য স্কলারশিপ পেয়েছেন। প্রথমে ভেলোরের ভুরহি কলেজে ভর্তি হলেও, পরে মাদ্রাজ ক্রিশ্চান কলেজে ভর্তি হন তিনি। তাঁর বিষয় ছিল দর্শন। কিন্তু দর্শন তাঁর প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল না। বই কেনার টাকা ছিল না রাধাকৃষ্ণনের। কিন্তু সেই সময়েই একই কলেজ থেকে দর্শন নিয়ে স্নাতক হন তাঁর এক দাদা। দাদার বইয়ের জন্যই দর্শনকেই বেছে নেন তিনি।

বয়স যখন ২০, বেদান্ত দর্শন বিষয়ে তাঁর লেখা গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

২) রাধাকৃষ্ণন ১৯০৮-এ মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনাজীবন শুরু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ও তাঁর অধ্যাপনার স্বাদ পায়। অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।

৩) ছাত্রছাত্রীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন রাধাকৃষ্ণন। মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার উদ্দেশ্যে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন, তখন তাঁর পড়ুয়ারা ফুলসজ্জিত গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।

৪) বয়স যখন ১৬, দূর সম্পর্কের আত্মীয় শিবাকামুকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫৬-য় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

৫) ১৯৫২-য় উপরাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। কিন্তু তার আগে, অর্থাৎ ১৯৪৬-এ ইউনেস্কোর ভারতের দূত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৪৯-এ তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত হন।

দশ বছর দেশের উপরাষ্ট্রপতি থাকার পর ১৯৬২-তে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। নোবেলজয়ী ব্রিটিশ দার্শনিক, বারট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, “ড. রাধাকৃষ্ণন ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়া মানে দর্শন বিষয়টার কাছে একটা আলাদা সম্মানের। আমি নিজে দার্শনিক, তাই আমি গর্বিত।”

৬) রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর পড়ুয়াদের দাবি ছিল তাঁর জন্মদিনটা যেন বিশেষ ভাবে উদযাপন করা হয়। রাধাকৃষ্ণন বলেছিলেন, “জন্মদিন উদযাপন না করে সেই দিনটা যদি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়, তা হলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।” সেই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ভারতে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হয়।

৭) ১৯৫৭-য় রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর, রাধাকৃষ্ণনকেই রাষ্ট্রপতি করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কিন্তু মৌলানা আজাদের তীব্র বিরোধিতায় সেটা হয়নি। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ আরও  পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি থাকেন। ১৯৬২-তে নেহরুর সক্রিয়তায় রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন।

৮) তাঁর রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে দু’টো যুদ্ধে যেতে হয় ভারতকে। প্রথম ছিল ১৯৬২-তে চিনের সঙ্গে যুদ্ধ। রাষ্ট্রপতির আসনে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যুদ্ধ। এর তিন বছর পরে ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ।

১৯৬৫-এর ২৫ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণের সময়ে রাধাকৃষ্ণন বলেন, “পাকিস্তান ভারতকে হয় খুব দুর্বল ভেবেছে, নয়তো খুব ভীত ভেবেছে। ভারত সাধারণত অস্ত্র হাতে তোলে না, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার। পাকিস্তান যেটা ভেবেছিল, তার বিপরীতটাই হল।”

১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যু হয়, এর ঠিক দু’ বছর পরেই তাসখন্দে আকস্মিক মৃত্যু হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর।

৯) তাঁর জীবনীতে, বাবার সম্পর্কে রাধাকৃষ্ণনের ছেলে সর্বপল্লি গোপাল বলেছেন, “কখনও কোনো নিম্নমানের কাজ করেননি তিনি। কখনও কোনো নিম্নমানের চিন্তাও এসেছিল বলে মনে হয় না।”

১০) ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখায় প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে নটবর সিংহ বলেছিলেন, রাধাকৃষ্ণনের মুখে নিজের বিরোধিতা মেনে নিতে পারেননি ইন্দিরা গান্ধী। তাই ১৯৬৭-তে দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ হারান রাধাকৃষ্ণন। নটবরের কথায়, “এটা রাধাকৃষ্ণনের কাছে বিশাল আঘাত ছিল।”

১৯৭৫-এর ১৭ এপ্রিল প্রয়াত হন রাধাকৃষ্ণন।

Continue Reading

দিবস

শিক্ষক দিবসে ওঁদের কথা

Published

on

শিক্ষাগুরুদের কথা বলেছেন গণেশ হালুই, মাধবী মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ ঘোষ ও কল্যাণ সেনবরাট ।

গণেশ হালুই

ভুলতে পারব না আঁকার শিক্ষক গফুর মিয়াঁকে

গণেশ হালুই (চিত্রশিল্পী)

পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর সাবডিভিশনের একটি সরকারি স্কুল। সেই স্কুলের আঁকার ক্লাস নিচ্ছেন গফুর মিয়াঁ। প্রথমেই ব্ল্যাকবোর্ডে আঁকলেন একটি ক্রস। উনি দেখাতেন ওই ক্রস থেকে হাত-পা-শরীর সব আঁকা যায়। উল্লম্ব রেখাটি মানবশরীরের মেরুদণ্ড। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, সেই তখনকার কথা বলছি। এই মাস্টারমশাইয়ের কথা আমি কোনও দিন ভুলতে পারব না। আমার জন্ম ১৯৩৬ সালে। আজও মনে মনে দেখতে পাই, আঁকার সঙ্গে আমাদের রঙিন চক দেওয়া হত। আর চালিয়ে দেওয়া হত গান কিংবা কবিতা। মিউজিক থেমে গেলে আমাদের আঁকা থামাতে হত। পরেও আমি এ রকম কোথাও দেখিনি।

ওই স্কুলের আরও দুই শিক্ষকের কথা মনে আছে। ইতিহাস পড়াতেন খলিমুদ্দিন ভুঁইয়া। পুরোনো স্কুলবাড়ির সিঁড়ি ধরে উঠে আসতেন ইতিহাসের কোনো ঘটনা বলতে বলতে। আর ইংরেজি পড়াতেন নায়েব আলি স্যার। এত সুন্দর টেন্‌স পড়িয়েছিলেন যে আমার মনে হয় সেই থেকে আমি ইংরেজি লিখতে শিখেছি। ১৯৫০-এ কলকাতা চলে আসি। কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি হলাম। অনেক শিক্ষককেই কাছে পেয়েছি। অজিত গুপ্তর কথা খুব মনে পড়ে। সেই দিনগুলোই ভালো ছিল। ওই মাস্টারমশাইরা কোনো দিন নিজেদের আদর্শ থেকে সরে আসেননি।

মাধবী মুখোপাধ্যায়

পথ দেখিয়েছিলেন শিশিরকুমার ভাদুড়িমশাই

মাধবী মুখোপাধ্যায় (অভিনেত্রী)

যাঁর কাছে যা কিছু শিখি তিনিই আমার কাছে গুরু। এই যে আমার বিস্তৃতি, আমি প্রতিষ্ঠিত হলাম, মঞ্চ চিনলাম, সে সবের পিছনে যিনি ছিলেন তিনি শিশিরকুমার ভাদুড়িমশাই। একেবারে হাত ধরে, ক’পা ফেলতে হবে এ সব গুণে গুনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তিনি দেখিয়েছিলেন। আমার তখন ৫ কি ৬ বছর বয়স। ভাদুড়িমশাইয়ের হাত ধরে মঞ্চ দেখলাম। ওনার হাত ধরে আমি মিনার্ভা থিয়েটারে এসেছিলাম। মঞ্চের আলো আমাকে অভিভূত করেছিল। সেই অর্থে অভিনয়জগতে আমার গুরু শিশির ভাদুড়ি।

এর পরে যাঁকে পেলাম তিনি ছবি বিশ্বাস। অভিনয় জীবনে যথার্থ শিক্ষা যে কত প্রয়োজন তা ওই ভাদুড়িমশাই আর ছবি বিশ্বাস না থাকলে শিখতে পারতাম না। মঞ্চশিক্ষা শিল্পী তৈরি করে। সে ব্যবস্থা আর নেই। সেই অর্থে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক আর নেই। আমার হাতেখড়ি তাঁদের হাতে। মঞ্চ আমার কাছ মন্দির আর দেবতা সেই সব গুরু।

এ ছাড়াও অহীন্দ্র চৌধুরী, নির্মলেন্দু  লাহিড়ী, মহেন্দ্র গুপ্ত – আমার কাছে পরম শ্রদ্ধেয়। আমি জানি না শিক্ষক দিবসে গুরুর কথা জানতে চাইলে কত জন কী কথা জানাবেন। হরনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই সব দিদিমণির কথা খুব মনে পড়ে। আমি নাটক করতাম বলে ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারতাম না। দিদিমণিরা আমাকে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখতেন। স্কুলের বাচ্চাদের দেখলে সে সব কথা বড়ো মনে পড়ে।

প্রদীপ ঘোষ

কানুদা শিখিয়েছিলেন সূর্যোদয়ের আগে অরুণোদয় হয়

প্রদীপ ঘোষ (আবৃত্তিকার)

আমার জীবনে প্রথাগত যে শিক্ষাব্যবস্থা যেমন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় – তা ছিল বাড়ি থেকে নির্ধারিত করে দেওয়া। কিন্তু আমার পছন্দের জায়গা ছিল গোটা বিশ্ব। ম্যাক্সিম গোর্কির ওই পৃথিবীর পাঠশালা বইগুলি পড়ে আমি নতুন করে বিদ্যালয়কে আবিষ্কার করি, যেখানে পুথিগত বিদ্যা থেকে প্রত্যক্ষ অনুভূত এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বিদ্যায়তন যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। যাঁরা আমাকে ওই বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে শিখিয়েছিলেন, সেই সব গুরুজনকে আজ শিক্ষক দিবসে প্রণাম জানাই।

খড়গপুর সিলভার জুবিলি হাইস্কুল – আমার জীবনের প্রথম স্কুল। এক বছর পড়েছিলাম। ওই সময়ে আমার জীবনে এক জন মানুষের প্রভাব কোনো দিন ভোলার নয়। কানুদা, গান্ধী আশ্রমে থাকতেন। আমাদের বাড়িতে দুধ দিতে আসতেন। তিনি আমাকে প্রকৃতি চিনিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন সূর্যোদয়ের আগে অরুণোদয় হয়। তখনও সূর্য ওঠে না, ওঠার প্রস্তাবনা বা আভাসমাত্র। উনি আমাকে সেটা না দেখালে আমি তা কোনো দিন জানতে পারতাম না। আমরা যেখানে থাকতাম, সেখানে শাল-মহুয়ার বন ছিল। সেই বনে নানা রঙের পাখি ছিল, ছোটো ছোটো প্রাণী যেমন খরগোশ, ইঁদুর, সাপ, বেজি তিনি ধরে ধরে চিনিয়েছিলেন। এখন এই বয়সেও আমি শিক্ষার উপাদান পৃথিবীর বুক থেকে আহরণ করি।

একটু বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখের পাওয়ার বেড়ে চলেছিল খুব দ্রুত। সাড়ে এগারো পাওয়ার হওয়ায় ডাক্তার বই পড়া বন্ধ করে দিলেন। স্কুল ফাইনালের আগেই এই অবস্থা হওয়ায় বাবা এক প্রাজ্ঞ মানুষকে বাড়িতে আনলেন। তিনি আমাকে সব বিষয় পড়ে শোনাতেন। এটাই আমার পরীক্ষা দেওয়ার রীতি হল। তিনি শচীন্দ্রচন্দ্র মজুমদারমশাই, যিনি রবীন্দ্রনাথ ও স্বামী অভেদানন্দ মহারাজের সান্নিধ্য পেয়েছেন। স্কুল থেকে ফিরে আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখতাম তিনি আমার মুখের দিকে স্নেহশীল চোখে তাকিয়ে আছেন। আমাকে পড়া শোনানো শুরু করতেন। এঁদের আজও ভুলতে পারিনি।

আরও একজনকে পেয়েছিলাম। তিনি প্রাথমিক বিভাগে লাইব্রেরি ও বাগান দেখাশোনা করতেন। তাঁর নাম জগবন্ধু সীট। আমার চোখের অবস্থা খারাপ বলে আমাকে বাগান করানো শিখিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন বাগান তো করেন মালি, তুমি কী করবে? তুমি আমার সঙ্গে ১-২টি গাছ সৃষ্টি করবে। বীজ মাটিতে পোঁতা হল, জল দিলে, সার দিলে আর দেখবে যখন অঙ্কুরিত হবে তখন একে রক্ষণাবেক্ষণ করবে। যখন এটাতে ফুল আসবে তখন জানবে এ গাছ তোমার সৃষ্টি। তুমি ভালোবাসা দিয়ে একে সৃষ্টি করলে। ওই সব শিক্ষকের কথা আজ অনুরণিত হয়, মনে মনে কথা বলি। প্রণাম জানাই।

কল্যাণ সেন বরাট

শেখার আলো জ্বালিয়ে তুললেন সলিলদাই

কল্যাণ সেনবরাট (সংগীত পরিচালক)

শিশুকালে শিক্ষা যে হেতু বাড়িতেই হয়, সেই অর্থে বাবা-মাই প্রথম শিক্ষাগুরু। বাবা-মায়ে্র উৎসাহ ছাড়া কিছুই হয়ে উঠত না। তার পরে তো সুর শুনে শুনে গান শেখা। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কাছে লোকসঙ্গীত শেখা। সেই দিক দিয়ে ভাবলে সলিল চৌধুরীর কাছে গিয়ে খুবই উপকৃত হয়েছিলাম। আজকের এই শিক্ষক দিবসে কাকে ছেড়ে কার নাম করব ভেবে পাচ্ছি না।

ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য আমার সম্পর্কে জামাইবাবু। ওঁর সান্নিধ্য আমাকে খুব উৎসাহিত করত। একলব্য হিসেবে আমি ভীষণ ভাবে একনিষ্ঠ ছিলাম। ওনাকে অনুসরণ করতাম বলে আমার বহু গানে ওঁর প্রভাব পড়েছে। তবে আমাদের প্রধান গুরু হল কান। শ্রবণ একটা বড়ো মাধ্যম।

সলিলদার কথায় ফিরে আসি। তখন গানবাজনা শুরু করেছি। নিজেকে মনে করছি অনেক কিছু শিখে ফেলেছি। প্রথম ধাক্কাটা খেলাম সলিল চৌধুরীর কাছে গিয়ে। ছিলাম কুয়োর ব্যাঙ, গিয়ে পড়লাম সাগরে। শিক্ষা প্রচুর বাকি। একটা জিনিস জানতে গিয়ে বহু অজানা জিনিসের মুখ এসে পড়ছি। শেখার আলো জ্বালিয়ে তুললেন সলিলদাই। এ কৃতিত্ব সলিলদার।

তবে হেমাঙ্গদার কাছে সব থেকে বড়ো শিক্ষা হল কী ভাবে একজন শিল্পী-সংগঠক হওয়া যায়। হেমাঙ্গদা ধরে ধরে শিখিয়েছিলেন। তা না হলে ৩৭-৩৮ বছর ধরে ‘ক্যালকাটা কয়্যার’ চালাচ্ছি কেমন করে। মনে পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুধাদিদিমণির কথা। বিদ্যালয়ের সেই সব মাস্টারমশাইয়ের কথা যাঁরা সত্যিকারের মানুষ করার চেষ্টায় ছিলেন। তাঁদের স্মরণ না করে উপায় নেই। খুব ছেলেবেলার একটা কথা মনে পড়ছে। তখন বয়স পাঁচ কি ছয়। আমাদের দুই ভাইকে বাড়িতে পড়াতে আসতেন সুন্দর চেহারার এক মাস্টারমশাই। তিনি তখন সবে কলেজে পড়েন। আমাদের মাঠে ক্রিকেট খেলাতে নিয়ে যেতেন। পরে পড়াতে বসাতেন। এই সব মানুষ চিরকাল সম্মানের আসন আলো করে রাখেন। এঁদের ভুলি কেমন করে?  

অনুলিখন: পাপিয়া মিত্র  

Continue Reading
Advertisement
Kings XI Punjab vs MUmbai Indians
ক্রিকেট1 hour ago

রাজস্থানের পর এ বার মুম্বইয়ের কাছেও আটকে গেল পঞ্জাব

I2Cure
শরীরস্বাস্থ্য4 hours ago

আই2পিওর ভারতে এল আই2কিয়োর হিসাবে

Covid situation kolkata
রাজ্য4 hours ago

সুস্থতা বাড়লেও কলকাতা-সহ রাজ্যের ৮ জেলার কোভিড-পরিস্থিতিই এখন উদ্বেগের

শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

সরষের তেল থেকে এলপিজি হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, কাল থেকে যে ১০টি নিয়ম বদলে যাচ্ছে

Coronavirus durga puja
দেশ2 days ago

ওনামেই বিপদ বাড়ল কেরলের, পুজোর আগে শিক্ষা নিতে হবে পশ্চিমবঙ্গকে

Rapes in India
দেশ2 days ago

দৈনিক ৮৭টি ধর্ষণের ঘটনা ভারতে, চাঞ্চল্যকর তথ্য এনসিআরবির

Uttar Pradesh Police
দেশ2 days ago

আটকে রাখা হল পরিবারকে, ঘেঁষতে দেওয়া হল না সংবাদমাধ্যমকে, হাতরাসের তরুণীর শেষকৃত্য করল পুলিশ

corona
দেশ2 days ago

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও সুস্থ হলেন আরও বেশি মানুষ, সক্রিয় রোগী আরও কমল ভারতে

দেশ2 days ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৮০৪৭২, সুস্থ ৮৬৪২৮

covid peak india
দেশ3 days ago

১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সক্রিয় রোগীর গ্রাফ নিম্নমুখী, কোভিডের চূড়া কি অবশেষে পেরোল ভারত?

coronavirus
দেশ3 days ago

দেশে নতুন কোভিড-আক্রান্তের সংখ্যা গত ২৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন, ব্যাপক পতন মৃত্যুর সংখ্যাতেও

দুর্গা পার্বণ3 days ago

করোনাকালে আড়ম্বর থাকবে না, তবুও থাকবে চমক তেলেঙ্গাবাগানের পুজোয়

Coronavirus west bengal
দেশ3 days ago

বুধবারের মধ্যেই জারি হবে আনলক ৫-এর নির্দেশিকা, কী কী ছাড় মিলতে পারে এ বার?

Mamata Banerjee
রাজ্য2 days ago

‘গুরুপদ সিনহার মৃত্যু পশ্চিমবঙ্গের আলু ব্যবসায়ীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি’, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রযুক্তি3 days ago

গাড়ির কাগজ থেকে ই-চালান, নয়া মোটর ভেহিকল আইনের পরিবর্তনগুলি আপনার জেনে রাখা উচিত

Mukesh Ambani
শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

লকডাউনের পর থেকে প্রতি ঘণ্টায় মুকেশ অম্বানির আয় ৯০ কোটি টাকা!

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা3 days ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা6 days ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা1 week ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 week ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা2 weeks ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা2 weeks ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা3 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা3 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা4 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

নজরে