সিঙ্গাপুর:একটি নথিতে(নাকি চিঠি?) সইসাবুদ করলেন দুজনে। একজন বললেন সেটা ‘ঐতিহাসিক’, অন্যজন বললেন ‘খুবই বাস্তবোচিত’। কিন্তু সেই নথিতে ঠিক কী আছে, তা খোলসা করলেন না কেউই। জানা গেছে, দুজনেই নাকি পরে সেসব বলবেন।

তবে ব্যাপার হল, প্রায় নব্বই মিনিট দু দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর কিম জং উন বলেছেন, তাঁরা শান্তির লক্ষ্যে কাজ করবেন এবং গোটা দুনিয়া খুব শিগগিরই পরিবর্তন দেখতে পাবে। ট্রাম্পও কম যান না। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে নাকি কিমের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দুজন এরপর বারবার দেখা করবেন। কিমকে খুব শিগগির হোয়াইট হাউজে নেমতন্নও করবেন তিনি।

এদিন মধ্যাহ্নভোজনের পর দুই রাষ্ট্রপ্রধান একসঙ্গে হোটেলের বাগানে পায়চারিও করেন। সেটাই হয়তো ‘শান্তির প্রস্তাবনা’। এদিনের চুক্তিকে এই নামটাই দিয়েছেন কিম। কারণ জানা গেছে, যেমন পরিকল্পনা ছিল, তেমন কোনো চুক্তি এদিন সাক্ষরিত হয়নি। তবে আগামী দিনে সম্ভাবনা আছে।

এ সবের আগে এদিন সিঙ্গাপুরের হোটেলে পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন দুই নেতা। তারপর একান্তে ৪০ মিনিট বৈঠকও করেন। তারপর শুরু হয় মূল বৈঠক।

 

তখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস এই দুই দেশের সম্পর্ক দুর্দান্ত হতে চলেছে। কম বলেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যেকার সমস্যা মিটিয়ে ফেলবেন। পাশাপাশি স্বীকার করে নেন, এদিনের বৈঠক হওয়াটা সহজ ছিল না। অনেক বাধা ডিঙিয়ে তবে এই বৈঠক করতে হয়েছে।

তারপর যখন সকলে নতুন বৈঠকের জন্য ঢুকছেন, তখন শুনতে পাওয়া যায়, কিম তাঁর দোভাষীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে বলছেন, “যাঁরা এই বৈঠক দেখছেন, তাঁদের মনে হচ্ছে এটা রবপকথা বা সায়েন্স ফিকশন সিনেমা”।

সবই হল, সাতমণ তেলও পুড়লো। কিন্তু রাধা কি নাচল? এই দুই নেতার কাণ্ডকারখানা বহুদিন ধরেই গোটা দুনিয়াকে বিনোদন(আশঙ্কা?)দিয়ে চলেছে। দুই কোরিয়ার সীমান্ত থেকে আমেরিকা কি সেনা সরাবে? কিম কি তাঁর সব পরমাণু অস্তর নষ্ট করবেন কোনোদিন? এ সব প্রশ্নের উত্তর এদিন মেলেনি। শুধু ট্রাম্প বলেছেন, “কিম খুব প্রতিভাবান মানুষ। উনি নিজের দেশকে খুবই ভালবাসেন”।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন