trump approval rating

ওয়েবডেস্ক: খেলা জমিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বছরের প্রথম দিনের প্রথম টুইটে এদিন পাকিস্তানকে এক হাত নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললেন, পনেরো বছর ধরে মার্কিন নেতাদের বোকা বানিয়ে চলেছে পাকিস্তান। এই সময়কালে আমেরিকা সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। অথচ পাকিস্তান কিছুই করেনি। কেবল মিথ্যা কথা বলেছে আর প্রতারণা করেছে। উল্টে আমেরিকা যখন আফগানিস্তানে জঙ্গি দমনে তৎপরতা দেখাচ্ছে, তখন সেই জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান। এই অবস্থা তিনি যে আর চলতে দেবেন না, তা স্পষ্ট জানিয়েছেন ট্রাম্প।

 

কিছুদিন আগেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছিল, পাকিস্তানকে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ২২৫ মিলিয়ন ডলার আটকে দিতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত আগস্টে নতুন দক্ষিণ এশিয়া নীতি ঘোষণা করে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমেরিকার সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান সাহায্য না করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি তিনি বলেন, পাকিস্তানকে প্রচুর টাকা দেয় আমেরিকা, তাঁরা আমেরিকাকে সাহায্য করতে বাধ্য।

এদিন কড়া ভাষায় টুইট করলেও, নির্দিষ্ট ভাবে পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেননি মার্কিন প্রেসেডেন্ট। ফলে, এর পেছনে গভীর রাজনীতি আছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কী সেই রাজনীতি?

পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সুসম্পর্কের কথা দুনিয়া জানে। এক বছর আগেই সম্পর্কের দীর্ঘ দিনের শৈত্য কাটিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া করেছে রাশিয়া। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দুনিয়ার মেরুকরণের সঙ্গে ট্রাম্পের সোমবারের অবস্থান সরাসরি যুক্ত। এদিকে রয়েছে ভারত। পূর্বতন ইউপিএ জমানা থেকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমেই ভালো হয়েছে। কিন্তু তখন মার্কিন মসনদে ছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে আমেরিকায় যখনই রিপাবলিকান বা রক্ষণশীলরা শক্তি সঞ্চয় করে, তখনই ভারতে শক্তিশালী হয় বিজেপি। ১৯৯৯ সালে বাজপেয়ী সরকার তৈরির বছর দুয়েক পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন জর্জ বুশ। এবারও মোদী ক্ষমতায় আসার দু বছর পরেই ক্ষমতায় এসেছেন রিপাবলিকান ট্রাম্প। বিজেপি সরকার সর্বদাই পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতাকে তীব্র অবস্থানে নিয়ে গিয়ে রাজনীতি করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। সম্প্রতি গুজরাত নির্বাচনেও পাক চক্রান্তের কথা প্রচার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই নির্বাচনে বিজেপি কোনোমতে গড় রক্ষা করেছে। তারপরই সীমান্তে ভারত-পাক গোলাগুলি বৃদ্ধি পেয়েছে। বোঝাই যায়, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পাকিস্তানকে ভারতের জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতির প্রধান অন্তরায় বানিয়ে প্রচার তীব্র করবে বিজেপি।

উল্টোদিকে বিশ্বাবাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় শক্তি বাড়ছে তেল লবির। বিশ্বে যার মূল রাজনৈতিক মুখ ওবামা-হিলারি ক্লিন্টনের দল ডেমোক্র্যাটরা। গুজরাত নির্বাচনের আগে ভারতে ঘুরেও গেছেন বারাক ওবামা(বিপরীতে মোদীর সঙ্গে রাজকীয় নৈশভোজ সেরে গেছেন ডোনাল্ডের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প)। ওদিকে রাশিয়ার সঙ্গে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। আরবের তেল দুনিয়ায় রাশিয়ার প্রভাবও কম নয়। ট্রাম্পের জয়ে পুতিনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রক্ষা করতে রাশিয়ার সেরা বাজি ভারতই।

সব মিলিয়ে মোদী-অমিত শাহদের পাকিস্তান বিরোধী প্রচারকে ধারালো করার জন্যই এদিনের এই টুইটটি ট্রাম্প করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বর্তমান মার্কিন শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ।

তাছাড়া এদিনের টুইটে পাকিস্তানকে অন্য একটি বার্তাও দিতে চেয়েছেন ট্রাম্প। সেই বার্তাটি হল, ‘টাকা পেতে হলে চিন-রাশিয়ার সঙ্গে নৈকট্য কমাও’।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন