trump shooting florida arm teachers

ওয়াশিংটন: কথায় আছে ‘অসির চেয়ে মসি দড়’! কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন পেন নয়, আসল শক্তিশালী জিনিস অস্ত্রই। সেই জন্য তো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে বন্দুক রাখার পরামর্শ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে বন্দুক থাকলে স্কুলে গুলিচালনার মতো ঘটনা কমবে।

এমনিতে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক আইন খুবই দুর্বল। সেই আইনের ‘সাহায্যে’ যে কেউ খুব সহজেই বন্দুক পেয়ে যেতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে গুলিচালনার ঘটনাও খুব বেশি। এ রকম গুলিচালনার ঘটনা ঘটলেই বারবার দাবি ওঠে এই বন্দুক আইনকে আরও শক্তিশালী করার। কিন্তু আদতে সেই পথে কেউ হাঁটে না। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টও যে সেই পথে হাঁটবেন না সেটা বুঝিয়ে দিলেন।

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডার স্কুলে গুলিচালনার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বেশ কিছু পড়ুয়াকে নিয়ে নিজের বাসভবন হোয়াইট হাউসে ঘণ্টাখানেকের সভা করেন ট্রাম্প। সেখানেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি। যদিও বন্দুক যাতে সবার হাতে না পৌঁছে যায় সেই দিকটা দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের মতে, শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং স্কুলের বাকি কর্মচারীদের হাতে বন্দুক থাকলে তা দিয়ে বন্দুকবাজকে ভয় দেখানো যাবে এবং সেই বন্দুকবাজ পালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “স্কুলে যদি শিক্ষক-শিক্ষকার হাতে বন্দুক থাকে তা হলে বন্দুকবাজের হামলা আটকানো যাবে।”

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা কয়েক জন ট্রাম্পের এই যুক্তিকে সমর্থন করলেও অধিকাংশ মানুষই বিরোধিতা করেছেন। এমনই একজন মার্ক বার্ডেন। ২০১২-তে একটি স্কুলে বন্দুকবাজের হামলায় নিজের ছেলেকে হারিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “শিক্ষক শিক্ষিকাদের এখন অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর ওপর আবার এমন একটা অস্ত্রের দায়িত্ব তাঁদের দেওয়া উচিত নয়, যেটা কোনো একজনের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।” উল্লেখ্য, বার্ডেনের স্ত্রীও একজন শিক্ষিকা।

এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জনের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে একজন পড়ুয়া যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক আইনের ব্যাপারে নিজের ক্ষোভ উগরে দেয়। সে বলে, “আমি এটা কিছুতেই ভাবতে পারি না যে এখন যদি দোকানে গিয়ে আমি একটা বন্দুক কিনতে চাই, সেটা আমি পেয়েও যাব।” এ রকম যাতে আর না হয়, ট্রাম্পের প্রতি সেই আবেদন করে ওই ছাত্র।

বুধবার ট্রাম্পের ওই সভার আগে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, শিকাগো-সহ আরও অনেক শহরেই বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষজন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন