reuters journalissts
ধৃত দুই সাংবাদিক।

ওয়েবডেস্ক: রোহিঙ্গাদের নিয়ে খবর করার ‘অপরাধে’ গত বছর ডিসেম্বরে সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছিল মায়ানমার সরকার। সেই দু’জনকে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা আইনভঙ্গের দায়ে সাত বছরের জেল দিল সে দেশের আদালত।

গত ডিসেম্বর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে রেঙ্গুনের ইনসেন জেলে ছিলেন দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কোয়া সে লু। এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনে অভিযোগ আনা হয়।এই ধারায় সর্বোচ্চ বারো বছরের জেল হতে পারে।

দুই সাংবাদিকের গ্রেফতারিতে বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে। রাষ্ট্রপুঞ্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবিতে সরব হওয়া বিভিন্ন সংস্থা এই সাংবাদিকদের বেকসুর খালাস দাবি করে। গ্রেফতারির পরেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রয়টার্সের এডিটর-ইন-চিফ স্টিফেন অ্যাডলার বলেন, “যে ভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন করছি, দ্রুত এই সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া হোক।”

আরও পড়ুন ব্রাজিলের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে বিধ্বংসী আগুন

মায়ানমারের মার্কিন দূতাবাস একটি বিবৃতিতে বলে, “গণতন্ত্রকে যদি সফল ভাবে চালনা করতে হয়, তা হলে সাংবাদিকদের কাজে কোনো ভাবেই হস্তক্ষেপ করা যাবে না।” রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “সাংবাদিকরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপরে খবর করছিলেন। তাই তাদের গ্রেফতার হতে হয়েছে।” মায়ানমারের কাছে সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবিও করেছে গুতেরেস।

কিন্তু বিশ্বজোড়া এই নিন্দায় মায়ানমার প্রশাসন যে খুব একটা বিচলিত নয় সেটা প্রমাণিত হল সোমবারের এই সাজা ঘোষণায়।

রায় ঘোষণার পর ওয়া লোন বলেন, “আমার কোনো ভয় নেই। আমি অন্যায় কিছু করিনি। আমি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন