লাহোর : পাকিস্তানের সাত বছরের শিশুকন্যা ধর্ষণ আর খুনের তদন্তে সন্দেহ ভাজন দু’ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এটি এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই দু’ জন ভাইয়ের বিরুদ্ধেই আরও ছ’টি ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় নাবালকের মৃতদেহের পাশে একটি খালি বাক্স পাওয়া গিয়েছিল। সেই খালি বাক্সের ফরেনসিক পরীক্ষা করেই সন্দেহ ভাজনের কাছে পৌঁছনো গিয়েছে, বলে জানিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য গত ৪ জানুয়ারি অপহরণ করা হয় নাবালিকাকে। এর পর ৯ তারিখে একটি জঞ্জালের স্তূপের ওপর পাওয়া যায় তার মৃতদেহ। তার পরই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঝড় বয়ে যায় গোটা এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এই দু’ ভাই পঞ্জাব প্রদেশের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা। এই এলাকায় গত নভেম্বর মাসে আরও এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। লাহোরের শিশু হাসপাতালে তার এখনও চিকিৎসা চলছে।

তদন্তে প্রায় ৩০০টা মোবাইল ফোন নম্বরকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিশ। তার মধ্যে থেকে ছ’টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। তিন দিন ধরে কসুর এলাকায় পুলিশ ভ্যান টহল দিয়ে চলেছে দোষীদের শনাক্ত করার জন্য। তদন্তে ১৩০০ মানুষকে জেরা করা হয়েছে, তাঁদের ডিএনএ টেস্ট করে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন ঃ আট বছরের গণধর্ষিতা শিশুকন্যার মৃতদেহ মিলল জঞ্জালের স্তূপে, প্রতিবাদী জনতার উপর পুলিশের গুলি

পঞ্জাব পুলিশের ইনস্পেকটর জেনারেল আরিফ নওয়াজ বলেন, তদন্ত ঠিক পথেই এগোচ্ছে। সন্দেহ ভাজনকে চিহ্নিত করতে একটি নতুন ভিডিও ফুটেজও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে।

তা ছাড়া নাবালিকার পরিবারও একটি ফুটেজ পোস্ট করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই ভিডিও-র একটি অংশ এটি। তা ছাড়াও মামলার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে এই সন্দেহে পুলিশ আলিপার্ক ও পীরওয়ালা এলাকার দু’টি বাড়িতে রেড করে বাড়ির মালিকদের জেরা করেছে। এই বাড়ির ভাড়াটেরা কয়েক দিন যাবত নিখোঁজ।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক এই মর্মে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে শিশু নির্যাতন সম্পর্কে যাবতীয় রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here