স্মারক হিসেবে সৈকতের বালি নিয়ে ফিরছিলেন ২ পর্যটক, এখন তাঁদের ওপরে ঝুলছে জেলের খাঁড়া

0

ওয়েবডেস্ক: সাবধান! ফ্রান্সের দুই পর্যটক যা করলেন, কোনো দিন এই সৈকতে যাওয়ার সুযোগ হলে, আপনারা অন্তত সেই কাণ্ডটি করবেন না। কারণ তা হলে আপনাদের মাথায় ঝুলবে জেলের খাঁড়া।

সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দুই পর্যটক। সৈকতের দিগন্তবিস্তৃত বালিরাশিতে তাঁরা এতটাই মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন, যে কিছুতেই আর ফিরতে মন চাইছিল না তাঁদের। কিন্তু ফিরতে তো হবেই। তাই স্মারক হিসেবে সৈকতের বালি কয়েকটি বোতলে ভরেছিলেন তাঁরা। ইচ্ছে ছিল বাড়ি ফিরে সেই বালি ঘরে সাজিয়ে রাখবেন। কিন্তু এ রকম ভাবে বালি তোলা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা তাঁরা জানতেনই না।

ইতালির দক্ষিণাংশে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত সার্দানিয়া দ্বীপ। রাজনৈতিক ভাবে ইতালির অংশ হলেও এই সার্দানিয়া স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। এমন কিছু নিয়ম তারা তৈরি করেছে যা শুধু এই দ্বীপেই প্রযোজ্য। তার মধ্যে একটা এই বালি তোলা-বিরোধী নিয়ম।

বালি নিয়ে যখন সার্দানিয়া থেকে ফ্রান্সগামী জাহাজে উঠতে যাবেন তাঁরা, তখনই তাঁদের ধরেন ইতালির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। স্থানীয় সংবাদপত্র সূত্রে খবর, ওই পর্যটকরা দাবি করেছেন তাঁরা এই সার্দানিয়া দ্বীপের নিয়মকানুন জানতেন না। ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু না করার দাবি জানিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়ারও আবেদন করা হয়। যদিও মুক্তি তো দূর, তাঁদের হাজতবাস হতে পারে। সার্দানিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ছ’বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে ওই দুই পর্যটকের।

আরও পড়ুন “কোন আইনের ভিত্তিতে?” চিদাম্বরম প্রসঙ্গে বললেন তাঁর আইনজীবী

২০১৭-এর আগস্টে এই নিয়ম কার্যকর হয় এই দ্বীপে। পর্যটকরা আসছেন এবং সৈকতের বালি, পাথর এবং ঝিনুক তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারটি আটকানোর জন্য এই নিয়ম চালু করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, যতই ওই পর্যটকরা নিয়ম জানেন না বলে দাবি করুন, গোটা সৈকত জুড়েই এই নিয়ম-সহ বোর্ড লাগানো হয়েছে। এমনকি পর্যটকরা যাতে বালি না তুলতে পারেন, সেই ব্যাপারে কড়া নজরদারিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গেই গত বছর আগস্টে রোমে অবস্থিত জার্মানির দূতাবাস ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছিল, “প্রথম দর্শনে যা মনে হবে একটা ছোট্ট ভুল, সার্দানিয়ায় সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্মারক হিসেবে প্রতি বছর লক্ষাধিক পর্যটক এখানকার সৈকত থেকে বালি, পাথর এবং ঝিনুক তুলে নিয়ে যান। এটায় আখেরে বড়ো ক্ষতি করে পরিবেশের আর সেই কারণেই আইন করে ব্যাপারটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এখানে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here