প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক তহবিল মামলায় ভারতের পক্ষেই রায় দিল লন্ডন হাইকোর্ট!

0
uk high court
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: লন্ডনের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড তহবিল মামলায় বুধবার লন্ডনের হাইকোর্ট ভারতের পক্ষেই রায় দিল। এই ঐতিহাসিক মামলায় জড়িত দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং পাকিস্তান।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের পুরনো আইনি বিতর্কের লড়াই চলছে লন্ডনের উচ্চ আদালতে। দেশভাগের সময় লন্ডনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হায়দরাবাদের নিজামের প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের (ভারতীয় টাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি) আইনি লড়াই লন্ডনের হাইকোর্টে এ বার গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল।

এ দিন লন্ডন হাইকোর্ট পাকিস্তানের দাবিকে অস্বীকার করে। পাকিস্তান দাবি করেছিল, অস্ত্র সরবরাহে অর্থের জোগান দিতে অথবা সরাসরি উপহার হিসাবে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ দিনের রায়ে হাইকোর্ট পাকিস্তানের সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দেয়।

প্রসঙ্গত, নিজামের বংশধর, প্রিন্স মুকাররম জাহ -যিনি হায়দরাবাদের অষ্টম নিজাম এবং তাঁর ছোট ভাই মুফাকহাম জাহ, লন্ডনে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাঙ্ক পিএলসি-তে জমা নিজামের ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পেতে প্রথম থেকেই ভারতের হাত ধরেছেন। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ওই আইনি লড়াইয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে নিজামের বংশধরদের যোগ দেওয়ার বিষয়টি এই জুটিকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে।

১৮৪৮ সালে হায়দরাবাদের তৎকালীন নিজাম ওসমান আলিখান ব্রিটেনে অবস্থিত নবগঠিত পাকিস্তান হাইকমিশনারের কাছে ১,০০৭.৯৪০ পাউন্ড এবং নয়টি শিলিং (ব্রিটেনের মূদ্রা) স্থানান্তরিত করেন। সেই টাকার উপর সুদ বাড়তে বাড়তে তা আজ এই বিশাল পরিমাণে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ, ভারতীয় টাকায় প্রায় ৩০০ কোটির বেশি।

নিজাম ওসমান আলিখান পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিলেও ভারতে থেকে যান। সে সময় ন্যাটওয়েস্ট ব্যাঙ্ককে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তখন থেকেই পাকিস্তানের হাইকমিশনার হাবিব ইব্রাহিম রহিমতোলার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা করে রেখেছে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাঙ্ক।

নিজাম ওসমান আলিখান

এ ব্যাপারে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসে অষ্টম নিজামের আইনজীবী পল হেইউট আগেই জানিয়েছেন, “মহামান্য অষ্টম নিজাম এবং তাঁর ছোটো ভাই তাঁদের পিতামহের দেওয়া উপহারের জন্য কয়েক দশক অপেক্ষা করেছেন। পাকিস্তান ৭০ বছর ধরে তা আটকে রেখেছে। আমরা আশা করি সাম্প্রতিক বিচারের শেষ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে আদালতে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here