নিউ ইয়র্ক: সিরিয়ায় রাসায়নিক গ্যাস হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের ডাকে জরুরি বৈঠকে বসছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। পাশাপাশি এই হামলার পেছনে আসাদ সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগে সরব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।

উল্লেখ্য, গত ছ’ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মঙ্গলবারের এই হামলা। বিদ্রোহীদের হাতে থাকা অঞ্চলের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে। এখনও পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। যদিও এই গ্যাস হামলার অভিযোগ সরাসরি খণ্ডন করেছে বাশার-আল-আসাদ সরকার। পাশাপাশি সিরিয়ার সেনাবাহিনীও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেই সঙ্গে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ার জোটসঙ্গী রাশিয়ার দাবি, তারাও এই ধরনের কোনো বিমানহামলা চালায়নি। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিবৃতিতে রাশিয়া জানিয়েছে, ল্যান্ডমাইন জাতীয় অস্ত্র তৈরি হয়, বিদ্রোহীদের এমন অস্ত্রভাণ্ডারে বিমানহানা চালায় সিরিয়া সরকার।

তবে রাশিয়া যা-ই বলুক, এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন-সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জে ব্রিটেনের দূত ম্যাথিউ রিক্রফট বলেছেন, “এই ঘটনা সিরিয়ায় শান্তি স্থাপনের পক্ষে খুব খারাপ খবর। এটা যুদ্ধাপরাধ। অন্য দিকে ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত ‘ আখ্যা দিয়ে সিরিয়া সরকারের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় কী ভাবে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছনো হবে সে ব্যাপারে আলোচনা করতে ব্রাসেলসে বৈঠকে বসতে চলেছে ইউএনডিপির (রাষ্ট্রপুঞ্জ উন্নয়ন কর্মসূচি) সদস্য দেশগুলি।

কেন গৃহযুদ্ধ সিরিয়ায়?

সিরিয়ায় এখন তিনমুখী যুদ্ধ। সরকারি বাহিনী, বিদ্রোহী বাহিনী এবং আইসিস। আইসিসের সঙ্গে বিদ্রোহীদের এক করে দেওয়া চলবে না। কারণ অনেক সময়েই হয়েছে বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে আইসিসের। এই বিদ্রোহী বাহিনী অবশ্য তৈরি হয়েছে বছর ছয়েক আগে। কিন্তু বিদ্রোহের বীজ পোঁতা হয়েছে গত দশক থেকে। বেকারত্ব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব এবং আসাদ সরকারের দমনমূলক আচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে আসতে আসতে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছিল। সেই ক্ষোভ বিদ্রোহের আকার ধারণ করে ২০১১ সালে। আসাদের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েন মানুষ, যেমন হয়েছে মিশরে মুবারক-বিরোধী বিক্ষোভে। সেই বিক্ষোভ দমনের নামেই বিদ্রোহীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে।

ছ’বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে আড়াই লক্ষ মানুষের। শুধু কি মৃত্যু? নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য ভিটে-বাড়ি ছেড়ে অন্যান্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here