নিউইয়র্ক: দু’মাসও কাটল না। রাষ্ট্রপুঞ্জের নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়নের সাম্মানিক দূতের পদ থেকে সরে যেতে হল জনপ্রিয় কমিকস চরিত্র ‘ওয়ান্ডার উইম্যান’কে। কারণ তার ‘পোশাক ছোটো’। গত ২১ অক্টোবর, কমিকস চরিত্রটির ৭৫তম জন্মদিনে এই সাম্মানিক পদে বসানো হয়েছিল তাকে। আগামী শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর শেষ হবে তার এই পদে থাকার মেয়াদ।

দূত হওয়ার পর থেকেই দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু হয়। ৪৫ হাজার মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আবেদন করেন, যাতে বলা হয়েছে, “যদিও চরিত্রটির মূল স্রষ্টারা হয়তো ওয়ান্ডার উইম্যানকে নারীবাদী বার্তা সহ একজন শক্তিশালী ও স্বাধীন ‘যোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হালে এই চরিত্রটির যে ছবি দেখা যায়, সেটি একজন গুরুস্তনী, শ্বেতাঙ্গ মহিলার, যার চেহারায় কোনো সামঞ্জস্য নেই”।

“মূল কথা হল, রাষ্ট্রপুঞ্জ বাস্তব দুনিয়ায় এমন কোনো নারীকে খুঁজে পায়নি, যিনি লিঙ্গ সাম্যের বিষয়টিকে কেন্দ্রে রেখে সব মহিলার ক্ষমতায়নের জন্য লড়াইয়ের প্রতীক হতে পারেন”, বলা হয়েছে ওই আবেদনে।

আরও পড়ুন : ওয়ান্ডার উইম্যান, কমিক্‌সের চরিত্রকে নারী ক্ষমতায়নের সাম্মানিক দূত বাছলো রাষ্ট্রপুঞ্জ

রাষ্ট্রপুঞ্জের মুখপাত্র জেফরি বেজ বলেছেন, ওয়ান্ডার উইম্যানকে সাম্মানিক দূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘অস্বাভাবিক’ কিছু নয়। কারণ, এর আগেও কাহিনির চরিত্রদের কয়েক মাসের জন্য দূত হিসেবে নির্বাচিত করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। এর আগে উইনি দ্য পুহ-কে বন্ধুত্বের সাম্মানিক দূত করা হয়েছে, টিঙ্কার বেল হয়েছে সবুজের দূত, অ্যাংরি বার্ড পেয়েছে জল ও শক্তি সংরক্ষণের সাম্মানিক দূতের সম্মান।

১৯৪১ সালে ডিসি কমিকসে ওয়ান্ডার উইম্যানকে প্রথম অপরাধীদের সঙ্গে লড়াই করে নির্যাতিতকে উদ্ধার করতে দেখা যায় । চরিত্রটি তৈরি করেছিলেন, উইলিয়ম মওলটন মার্সটন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here