ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

modi trump
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধ ক্রমশ তুঙ্গে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই লাদাখ এবং সংলগ্ন এলাকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে চিনের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘যুদ্ধে’র আবহ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের হয়ে সওয়াল করে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত মঙ্গলবার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হুংকার দিয়ে যুদ্ধের জন্য দেশের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য দিকে গতকালই দেশের তিন বাহিনীর প্রধান, এনএসএ প্রধান এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কূটনৈতিক মহলের মতে, সব মিলিয়ে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হচ্ছে ভিতরে ভিতরে। এহেন সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনিতে চিন-আমেরিকা ঠান্ডাযুদ্ধ চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, ভারত সীমান্তে চিনের কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন এবং এয়ারবেস সম্প্রসারণের বিষয়টি।

ট্রাম্প টুইটারে লিখেছেন, “আমরা ভারত এবং চিন, দুই দেশকেই জানাচ্ছি, তাদের মধ্যে সীমানা নিয়ে যে বিবাদ চলছে, তাতে মধ্যস্থতা করতে রাজি এবং সক্ষম আমেরিকা”।

https://twitter.com/realDonaldTrump/status/1265604027678670848?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1265604027678670848%7Ctwgr%5E&ref_url=https%3A%2F%2Fpublish.twitter.com%2F%3Fquery%3Dhttps3A2F2Ftwitter.com2FrealDonaldTrump2Fstatus2F1265604027678670848widget%3DTweet

এর আগেও কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। সে বার প্রস্তাব ওঠা মাত্রই তা নাকচ করে দেয় ভারত। দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো মেনে নেয়নি ভারত সরকার।

সংঘাত কেন তুঙ্গে?

স্যাটেলাইটের পাঠানো ছবিতে ধরা পড়েছে, লাদাখ এবং সিকিমে ভারত-চিন সেনার সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। এ ব্যাপারে উত্তেজনা বাড়িয়েছে প্যাংগং সো এবং গালওয়ান উপত্যকায় চিনের আরও দু’-আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন। চিনের তরফে সীমান্ত এলাকার একটি এয়ারবেসেরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকী, গালওয়ান উপত্যকায় গত দু’সপ্তাহে ১০০টিরও বেশি তাঁবু খাটিয়েছে চিনা সেনা।

এমন পরিস্থিতি যে ২০১৭ সালে ডোকলামের পর ভারত-চিনের মধ্যে সব থেকে বড়ো উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে, বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য এলাকায় চিনা সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্যাংগং সো এবং গালওয়ান উপত্যকার পাশাপাশি, ওল্ডি রোড, দারবুক, শায়ক এবং দৌলতবেগ এলাকাতে চিনা সেনার উপস্থিতির সঙ্গেই সংখ্যাবৃদ্ধির খবর পাওয়া গিয়েছে।

জিনপিংয়ের হুংকার

গত মঙ্গলবার শি জিনপিং দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন বলে দাবি করে সেনাবাহিনীকে দৃঢ় ভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নির্দেশ দেন।

ভারতের অবস্থান

প্রতিবেশী দেশের কোনো হুমকির মুখে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কোনো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে, তা কোনো মতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কৌশলগত ভাবে সংবেদশীল এলাকায় ভারতও সেনা সংখ্যা বাড়াচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন