ওয়াশিংটন : ইরাকের মসুলে মার্কিন বিমান হামলায় ১০৫জন অসামরিক ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন। এক তদন্তের পর তা স্বীকার করল পেন্টাগন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের জামানায় যে ‘বিধ্বংসী’ বিমান হানা চালিয়ে ছিল আমেরিকা তার চেয়ে এটি ভয়ঙ্কর বলা মনে করা হচ্ছে।
১৭ মার্চ মসুলে আইসিস ঘাঁটিতে বিমান হামলার তদন্ত শুরু করে পেন্টাগন। মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ম্যাথু আইসলার এই তদন্তের নেতৃত্ব দেন। তদন্তে দেখা যায়, ওই হামলার পর একটি বাড়তিই ১০১ জন মারা গিয়েছে। আরও ৪জন আশপাশের বাড়িগুলিতে মারা যায়। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ৩৬জনকে এখনও হিসাবে মধ্য ধরা হয়নি। ধরলে সংখ্যাটা বেড়ে ১৪৭ হতে পারে।
ইরাকি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আইসিসের যুদ্ধের সময় একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু সাধারণ নাগরিক। সেই সময়, মার্কিন বিমান হামলার পর ওই বাড়িটি ধংসস্তুপে পরিণত হয়। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য হামলার সময় বেশি উচ্চতায় ওড়া জেট বিমানকে ব্যবহার করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ওই হামলার পর ধংসস্তুপে পরিণত হয় বাড়িটি। সেখান থেকে একের পর এক মৃতদেহ বের করে আনার ছবি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সব দায় নিজে ঘাড়ে না নিয়ে বাড়িটি ভেঙে পড়ার জন্য আইসিসের দিকেও আঙুল তুলেছে পেন্টাগন। বৃহস্পতিবার এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে পেন্টাগন জানিয়েছে, আইসিস যোদ্ধারা ওই বাড়ির নিচে বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল। সেই বিস্ফোরক ফেটে বাড়িটি ধংসস্তুপে পরিণত হয়।
তবে ইরাকের স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ওই হামলায় ২০০বেশির অসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে নিহতদের নিকট আত্মীয়কে ‘সান্ত্বনা অর্থ’ দিতে রাজি আছে। এক সেনা কর্তা জানিয়েছেন, ইরাক এবং সিরিয়াতে দেখে গিয়েছে অধিকাংশ সময় এই ক্ষতিপূরণের অর্থ কেউ নিতে আসে না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন