মস্কো: মঙ্গলবার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে উত্তর কোরিয়া। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের শরিকের রক্তচাপ যে বেড়েছে সেটা বলাই যায়।

এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়াকে দমানোর জন্য তাদের অমিত্র দেশ তথা উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া এবং চিনের শরণাপন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কী ভাবে পিয়ংইয়ংকে দমানো হবে সে ব্যাপারে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক দিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে চিন এবং রাশিয়া, তখন যুক্তরাষ্ট্রের মতে, দক্ষিণ কোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শনই কিমের দেশকে দমানোর একমাত্র উপায়।

এই মুহূর্তে রাশিয়ায় রয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট ঝি জিংপিং। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন জিংপিং। বৈঠকের পর দু’দেশের তরফ থেকে একটি যৌথ বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে আবেদন জানানো হয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেওয়া হয়, তারাও যেন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের যৌথ সামরিক পরীক্ষা বন্ধ রাখে। চিন-রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, কোরিয়ান পেনিনসুলায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা খুব প্রয়োজন।

কিন্তু এই বিবৃতির ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকেও একটি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার ‘অস্থিতিশীল এবং বেআইনি কার্যকলাপ’ বন্ধ করার জন্য তারাও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ড্রিল করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, “জরুরি অবস্থা হলে শত্রু ঘাঁটিতে কী ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে তারই পরীক্ষা করা হয়েছে।”

চিন, রাশিয়া যতই বলুক, সোল এবং ওয়াশিংটনের এই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া যে বন্ধ হবে না তা সাফ জানিয়ে দেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব রেক্স টিলারসন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “পরমাণবিক শক্তি হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে মেনে নেওয়া হবে না।” বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সামরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও, এত দিন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথই খোলা রাখছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট মুন-জা-ইন।

বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তর কোরিয়ার সমস্যা সমাধানের রাস্তা বার করার জন্য বেশ চাপেই রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম মাউন্টের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার কথা বারবার বলে আসছে ট্রাম্প প্রসাশন। কিন্তু ট্রাম্প নিজে আলোচনায় রাজি নন। মাউন্টের মতে, “ট্রাম্প শুধু একটাই ফল চান। নিজের জয়। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সমস্যা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, এখানে সেই জয় পাওয়াটা খুব কঠিন।” যুদ্ধও যে কোনো পথ নয় সে কথাও মনে করিয়ে দেন মাউন্ট। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর আঘাত হানলে পালটা হামলা দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর করবে পিয়ংইয়ং। এর ফলে কোরিয়ান পেনিনসুলায় মৃত্যু মিছিল লেগে যাবে।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন