পদত্যাগী প্রতিরক্ষা সচিব।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিক্ষোভ দমনে সেনা নামানোর ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধ। আর তার জেরেই পদত্যাগ। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের (US Defence Secretary) পদ ছেড়ে দিলেন মার্ক টি এসপার (Mark T Esper)। তিনি বলেছেন, আমেরিকার শহরগুলিতে যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঢেউ বইছে, তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কর্মরত সৈন্যদের নামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। অন্তত পক্ষে এখন তো নয়ই।

সোমবার ঠিক এর উলটো কথাই বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তথা সেনাবাহিনীর প্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বলেছিলেন, বিক্ষোভ দমনে সেনা নামানো দরকার।

সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের ইস্যুতে পেন্টাগনে কী টালমাটাল অবস্থা চলছে, এসপারের মন্তব্যেই তা প্রমাণিত। প্রেসিডেন্ট তথা সেনাপ্রধানের বক্তব্যে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন পেন্টাগনের আধিকারিকরা। তাঁদের আশঙ্কা, এর পরে হয়তো দেখা যাবে ফৌজি আইন জারি করার প্রচেষ্টায় সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

পেন্টাগনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, দেশের অভ্যন্তরে আইন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয় সেনাবাহিনীকে একমাত্র শেষ উপায় হিসাবে কাজে লাগানো উচিত অর্থাৎ পরিস্থিতি যদি একেবারে হাতের বাইরে চলে যায়, তখনই।

এসপারের মন্তব্যে রীতিমতো ক্রুদ্ধ হন প্রেসিডেন্ট। পরে হোয়াইট হাউসে ডেকে তাঁকে তুলোধোনা করেন বলে এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এখনও এসপারের উপরে আস্থা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কেলে ম্যাকন্যানি বলেন, “এখনও পর্যন্ত বলতে পারি সচিব এসপার এখনও সচিব এসপার”, কিন্তু “প্রেসিডেন্ট আস্থা হারিয়েছেন কি না তা আমরা ভবিষ্যতে জানতে পারব”।

সাধারণ মানুষের এবং সক্রিয় ও সংরক্ষিত সেনাদের সমর্থন হারানোর ব্যাপারে পেন্টাগনের সিনিয়র নেতারা চিন্তিত। সেনাবাহিনীর ৪০ শতাংশ কর্মী অ-শ্বেতাঙ্গ। বুধবার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কম্যান্ডারদের উদ্দেশে এক বার্তা দিয়ে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ-এর চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মিলি (Gen. Mark A. Milley) বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য সংবিধান রক্ষা করার শপথ নিয়েছেন, তাঁর কথায়, “যে সংবিধান আমেরিকানদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বাক স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের সামনে থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাছাকাছি একটি গির্জায় যাওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার-সহ বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন মার্ক টি এসপার ও মার্ক এ মিলি। এর পরেই তাঁরা সক্রিয় হন এবং প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিরোধী বক্তব্য পেশ করেন।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন