ওয়াশিংটন: ক্রমেই দ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ভাবী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সখ্যও চর্চার বিষয় হয়ে রয়েছে গোটা দুনিয়ায়। এর মধ্যেই দু’দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও এক ধাপ বাড়িয়ে ৩৫ জন রুশ কূটনীতিককে আমেরিকা থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল ওবামা প্রশাসন। ওয়াশিংটন ও লস অ্যাঞ্জেলেস-এর দুটি রুশ দফতরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই দফতরগুলি থেকেই তথ্য সংগ্রহের কাজ করতেন রুশ কূটনীতিকরা। কূটনীতিকদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওবামা বলেছেন, এটি ‘মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি’-র বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ও যথাযথ’ সিদ্ধান্ত।

কূটনীতিকদের বহিষ্কার ছাড়াও, মস্কোয় মার্কিন কূটনীতিকদের ‘ভয় দেখানো’ ও মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আরও একগুচ্ছ রাশিয়া-বিরোধী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে আমেরিকা।

ওবামা বলেছেন, রাশিয়া যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে রিপোর্ট দিয়েছে ১৭টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। সেই রিপোর্ট খুব শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া হবে। তবে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ বৃহস্পতিবার দেখায়নি ওবামা প্রশাসন।

রাশিয়ার হস্তক্ষেপকে ‘রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সাইবার আক্রমণ’ বলে চিহ্নিত করেছে ওয়াশিংটন। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থার সমতুল্য’ বলেও তকমা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে এত কড়া পদক্ষেপ আমেরিকায় নজিরবিহীন।

দুটি রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ও ও চারজন রুশ গোয়েন্দা আধিকারিকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। অভিযোগ, এদের নির্দেশ ও হস্তক্ষেপেই গত গ্রীষ্মে আমেরিকায় সাইবার হ্যাকিং-এর কার্যকলাপ ঘটানো হয়েছিল।

যে সব রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আমেরিকায় নিয়েছে, তাদের নাম জানানো হয়নি তবে আমেরিকায় রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াক তাদের মধ্যে নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here