us shutdown

ওয়াশিংটন: প্রায় সাত লক্ষ অভিবাসী শিশুকে কোনো ভাবেই ফেরত পাঠানো যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের এই দাবি মানেনি রিপাবলিকানরা। দু’পক্ষের তীব্র মতবিরোধে সিনেটে পাশ হল না বাজেট। ফলে ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করতে হল যুক্তরাষ্ট্রে। এর ফলে দেশের সরকারি কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে।

ক্ষমতায় বসার এক বছরের মধ্যেই এই সংকটে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই অভিবাসী শিশুদের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্প বাতিল করে দেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসী শিশুদের জন্য যত অর্থ খরচ করা হয়, সেই অর্থ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কাজে লাগানো হবে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরেই তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয় রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। এই মতবিরোধের জন্যই প্রস্তাবিত বাজেট বিল পাশ হতে পারেনি মার্কিন সিনেটে।

আগামী এক মাস পর্যন্ত সরকারের বাজেট বাড়ানোর জন্য বিল পাশের শেষ সময় ছিল শুক্রবার মধ্যরাত। কিন্তু শেষ মুহূর্তেও বিলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককনেল ভোটের সিদ্ধান্ত নেন। সিনেটে বিলটির পক্ষে পড়ে ৫০টি এবং বিপক্ষে পড়ে ৪৯টি ভোট। এর এক দিন আগেই এই বিলটি ২৩০-১৯৭ ভোটে হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভ্‌সে পাশ হয়ে যায়।

কিন্তু মার্কিন সিনেটের নিয়ম হল, কোনো বিলকে পাশ করাতে গেলে তার পক্ষে ৬০টা ভোট পেতেই হবে। সেটি না হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই বিল নিয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানরা ঐক্যমত্যে না পৌঁছোনোয় সরকারি ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করতে হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

গত ২৫ বছরে এই নিয়ে চার বার ‘শাটডাউন’ দেখল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ বার এ রকম ‘শাটডাউন’ হয়েছিল ২০১৩ সালে, ওবামার আমলে। সে বার ১৬ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সরকারি কাজকর্ম। ছুটিতে যেতে হয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হোয়াইট হাউস ও মার্কিন কংগ্রেসে একই দলে নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও সরকারের বাজেট বিল অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হল। এর জন্য ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে তীব্র তোপ দেগেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, “ডেমোক্র্যাটরা দেশের নিরাপত্তা, সামরিক বাহিনী, শিশুদের এবং সমগ্র মার্কিন নাগরিকদের ওপরে রাজনীতিকেই রেখেছে।”

অন্য দিকে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, বিলের ব্যাপারে তাঁর দলকে প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এখন কথা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই শাটডাউনের কী প্রভাব পড়তে পারে?

বাজেট পাশ না হওয়ার অর্থ সরকারি আর্থিক অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা অনেক দফতরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে জাতীয় উদ্যান এবং সরকারি স্তম্ভগুলি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, ডাক ব্যবস্থা, বিমান পরিষেবা, বিপর্যয় মোকাবিলা, চিকিৎসা পরিষেবা, বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবার কাজ স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।

এই সংকট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কী ভাবে বেরিয়ে আসে সেটাই এখন দেখার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন