রিয়াধ: প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ সফর তাঁর। তাও আবার এশিয়ায়। মুসলিম দেশে। তবে মুসলিম দেশ হলেও মধ্য প্রাচ্যে সৌদি আরব, আমেরিকার বহুদিনের প্রতিনিধি। মাঝে রাজাদের দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা খারাপ করেছিলেন বারাক ওবামা। কিন্তু সে সব এখন অতীত। নানা চমকে রাঙিয়ে শনিবার রিয়াধে দিন কাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনই নাকি এই সফরের গুরুত্ব যে সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বললেন, ট্রাম্পের এই সৌদি সফর ” আমেরিকার সঙ্গে আরব ও ইসলামি দুনিয়ার সম্পর্কের মোড় ঘোরার সূচনাবিন্দু”।

উচ্ছ্বসিত ট্রাম্পও। বললেন, “এটা একটা দুর্দান্ত দিন।….আমেরিকায় প্রচুর বিনিয়োগ হবে। শুধু চাকরি, চাকরি আর চাকরি।”

তবে ওই বিনিয়োগের ব্যাপারটা এই সফরের একটা দিক মাত্র। আসল ব্যাপার হল, সৌদি আরবকে প্রচুর টাকার অস্ত্র বিক্রি করল আমেরিকা। ১০ বছর ধরে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র। তার মধ্যে ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র এখনই কেনাবেচা হয়ে গেল। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দিয়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে সাজিয়ে তুলছে, মধ্য প্রাচ্যকে ‘ইরানের বিপদ’ থেকে রক্ষা করতে।

অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ছাড়াও ট্রাম্প তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন বউ, মেয়ে, জামাইকে সঙ্গে নিয়ে।

অস্ত্র কেনাবেচার পাট চুকিয়ে রাতে মোরব্বা প্রাসাদে নৈশভোজে যান ট্রাম্প। সেখানে ঢোকার মুখে সৌদি ঐতিহ্য মেনে তাঁদের আপা্যায়ন করা হয় তলোয়ার নৃত্যের মাধ্যমে। যার পোশাকি নাম ‘আরদাহ’। মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব রেক্স টিলারসন ও বাণিজ্য সচিব উইলবার রসকে তলোয়ার কাঁধে নাচতেও দেখা যায়। তলোয়াড় হাতে না নিলেও নাচের তালে পা মেলান ট্রাম্পও। বাদ যাননি মেয়ে ইভাঙ্কা।

নৈশভোজের আজে রাজা সলমন এবং যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সৌদি আরব সফরের পর ট্রাম্প যাবেন ইজরায়েল। তারপর সফর-তালিকায় রয়েছে ভ্যাটিকান সিটি, বেলজিয়াম ও ইতালি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন