Donald Trump

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত রাখার ব্যাপারে প্রকাশ্যেই ওকালতি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ট্রাম্প এই প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (Democratic party) নেতারা।

ট্রাম্পের আশঙ্কা, “২০২০-তে সার্বিক ডাক ভোটগ্রহণ (Universal Mail-in Voting) ব্যবস্থা চালু হলে মার্কিন ইতিহাসে সব চেয়ে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন হবে এবং জালিয়াতি হবে।” প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের (US President election) ঠিক ৯৬ তিন আগে বৃহস্পতিবার এ কথাই টুইট করে বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প তাঁর টুইটে বলেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সব চেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা হবে। যত দিন না জনগণ নিরাপদে, সুরক্ষিত হয়ে, যথাযথ ভাবে ভোট দিতে পারছেন, তত দিন ভোট পিছিয়ে দেওয়া হোক।”

টুইটে এই বার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা।

হোয়াইট হাউস দখলে রাখার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প যথেষ্ট পিছিয়ে আছেন। ঠিক এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি বললেন, ডাক ভোটিং হলে নির্বাচনে রিগিং হবে। তিনি এই ব্যবস্থার আগাগোড়াই বিরোধী।

কোভিড ১৯ অতিমারি (Covid 19 pandemic) পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের একটা বেশ বড়ো অংশ ডাকে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিই বেছে নেবেন বলে মনে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পোলিং বুথে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ব্যাপারটি তাঁরা এড়িয়েই যাবেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত রাখার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জনপ্রতিনিধিরাই নন, রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও বলছেন, নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ট্রাম্পের টুইট-বার্তার পালটা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিসভার স্পিকার ন্যানসি পেলোসি টুইট করে বলেছেন, “সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচকদের বাছাই করার সময় এবং তাঁরা কবে ভোট দেবেন, সেই দিন মার্কিন কংগ্রেস নির্ধারণ করতে পারে, তবে সেই দিন সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এক হতে হবে।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছে, ডাক ভোটিং-এ জালিয়াতি হয়, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

সিএনএন আরও বলেছে, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই। ভোটের দিন ঠিক করার ক্ষমতা মার্কিন কংগ্রেসকে দিয়েছে সংবিধান। এবং ২০২১-এর ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্টের কাজের সূচনা হওয়ার যে দিন নির্ধারিত হয়ে আছে তা পিছিয়ে দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই সংবিধানে।

ট্রাম্পের নির্বাচনের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শুধু একটা প্রশ্ন রেখেছেন।

“ডাক যোগে ভোট গ্রহণের ব্যাপারে জোর দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা যে গোলযোগ সৃষ্টি করেছে, সে প্রসঙ্গেই প্রেসিডেন্ট একটা প্রশ্ন রেখেছেন”, ট্রাম্পের নির্বাচনী মুখপাত্র হোগান গিডলেকে উদ্ধৃত করে সিএনএন এ কথা বলেছে। “সার্বিক ডাক ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা চালু করার জন্য তারা করোনাভাইরাসের দোহাই দিচ্ছে। তার মানে কোনো নথিভুক্ত ভোটার ব্যালট চান বা না-চান, এই ব্যবস্থায় তাঁদের প্রত্যেককে ব্যালট পাঠাতে হবে।”

মার্কিন সেনেটে রিপাবলিকান পার্টির হুইপ সেনেটর জন থুন বলেছেন, “আমার মনে হয় সংবাদমাধ্যমের নজর কিছুটা টানার জন্য প্রেসিডেন্ট এই বিবৃতি দিয়েছেন। এর সত্যিই কোনো গুরুত্ব আছে কি না সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাচন পিছোতে চাইবেন, এমন একটা সম্ভাবনা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাথী এবং প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বিডেন (Joe Biden)। সিএনএন বলেছে গত এপ্রিলে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিডেন বলেছিলেন, “আমার কথা শুনে রাখুন। আমার মনে হচ্ছে উনি নির্বাচনটা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচন কেন করা যাবে না, তার কিছু যুক্তি হাজির করার চেষ্টা করছেন।”

জনমত সমীক্ষা কী বলছে

আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উতরে যাওয়াটা ট্রাম্পের কাছে দুরূহ কাজ। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এবিসি নিউজ যে সমীক্ষা করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্পকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যে সাড়া পাওয়া গিয়েছে তা সাংঘাতিক ভাবে কম এবং ভোটের বিভিন্ন সূচকে বিডেন অনেক এগিয়ে রয়েছেন।

জুলাই মাসের ১২ ও ১৫ তারিখে যে জনমত সমীক্ষা করা হয়, তাতে দেখা যাচ্ছে করোনা মহামারি ট্রাম্পের ভবিষ্যৎকে প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নথিভুক্ত ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ বিডেনের দিকে এবং ৪০ শতাংশ ট্রাম্পের দিকে। মার্চে যে সমীক্ষা করা হয়েছিল, তাতে ট্রাম্পের চেয়ে বিডেন মাত্র ২ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। মে মাসের সমীক্ষায় বিডেন ১০ পয়েন্টে এগিয়ে যান।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচনকে ভোটাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট হিসাবে দেখছেন এবং বিডেন বেশি উপযুক্ত প্রার্থী কি না, সেটা তাঁরা দেখছেন না।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন