Connect with us

বিদেশ

চিনের পড়শি হয়েও করোনা-রোগী মাত্র ২৪৯, ইউরোপে সাড়ে পাঁচ লক্ষ মাস্ক পাঠাচ্ছে ভিয়েতনাম

হো চি মিন সিটি: চিনে যখন থেকে করোনাভাইরাসের (Coronavirus) প্রাদুর্ভাব শুরু, সেই জানুয়ারিতেই প্রথম করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ভিয়েতনামেও (Vietnam)। কিন্তু এর পর চিনে তাণ্ডব চালিয়ে, ইউরোপকে তুর্কিনাচন নাচিয়ে এখন যখন আমেরিকাকে নাজেহাল করে ছেড়েছে করোনাভাইরাস, তখন ভিয়েতনামে তার কার্যত কোনো প্রভাবই নেই। কারণে এত দিন পেরিয়ে গেলেও সে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৪৯। আর মৃত্যু? একটাও নেই।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এই সাফল্য অর্জন করার পর এখন গোটা ইউরোপের পাশেই দাঁড়িয়েছে বামপন্থী এই দেশটি। করোনায় জেরবার ইউরোপের (Europe) দেশগুলির জন্য সাড়ে পাঁচ লক্ষ মাস্ক পাঠাচ্ছে তারা।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব যখন নাজেহাল, তখন এই যুদ্ধ কী ভাবে জিতল ভিয়েতনাম। এর পেছনে রয়েছে সঠিক সময়ে গ্রহণ করা সঠিক নীতি।

চিনে যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি, তখন থেকেই বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করে ভিয়েতনাম। কারণ চিন যে তাদের পড়শি, কোনো ভাবেই গা-ছাড়া মনোভাব দেখানো যাবে না।

সরকারি নির্দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল জায়গা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক সবাইকে খুঁজে খুঁজে পরীক্ষা করা শুরু হয়। পরীক্ষার জন্য ভিয়েতনাম একটা সহজ, কম খরচের কিটও বানিয়ে ফেলে।

এর পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে যত জন ভিয়েতনামে নেমেছেন, তাঁদের সবার ওপরে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা আসেন, তাঁদের ওপরেও নজরদাবি চালানো হয়। কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়। নজরদারি এড়িয়ে কেউ বেরিয়ে যেতে পারেন না। এর ফলস্বরূপ, সংক্রমিতের সংখ্যা এখনও আড়াইশো ছাড়ায়নি।

এখন তারা নজর দিয়েছে ইউরোপের দিকে। ইউরোপের পাঁচটি দেশের জন্য সাড়ে পাঁচ লক্ষ মাস্ক তৈরি করেছে তারা। মঙ্গলবার ইতালি (Italy), স্পেন (Spain), ব্রিটেন (Britain), ফ্রান্স (France) আর জার্মানির (Germany) দূতদের হাতে এই মাস্ক তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন রাজ্যে করোনায় মৃত ৫: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে দিনে ৫০ লক্ষ মাস্ক তৈরি হয়।

বিদেশ

চিনা সংস্থাগুলির উড়ান পরিষেবায় স্থগিতাদেশ জারি করল আমেরিকা

xi jinping and trump

ওয়াশিংটন: প্রথমে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল চিন (China)। এ বার পাল্টা জবাব দিল আমেরিকা (United States)। একটি নির্দেশিকায় জানানো হল, চিনের সমস্ত সংস্থার উড়ান পরিষেবা স্থগিত করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার আমেরিকার পরিবহণ বিভাগ (DoT) বিবৃতিতে জানায়, “আমেরিকা গত ১ জুন থেকে যাত্রী পরিবহণ শুরুর ব্যাপারে জানিয়েছিল। চিন সরকারের তাদের অনুরোধগুলি অনুমোদনে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের বিমান পরিবহণ চুক্তির লঙ্ঘন করেছে”।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ আগামী ১৬ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যদি নতুন কোনো নির্দেশ দেন, তা হলে এই স্থগিতাদেশ আগেই কার্যকর হতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারির (Coronavirus pandemic) এমনিতেই মার্কিন উড়ান সংস্থাগুলি পরিষেবার মাত্রা হ্রাস করে। তবে সম্প্রতি আমেরিকার ডেল্টা এয়ারলাইন্স চিনে পরিষেবা চালুর আবেদন জানায়। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও চিনের অ-সামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (CAAC) তাতে অনুমোদন দেয়নি।

স্বাভাবিক ভাবেই করোনা মহামারির আবহে নতুন করে সংঘাতের জড়াল আমেরিকা-চিন। জানা গিয়েছে, এই নির্দেশে আমেরিকায় চারটি চিনা বিমান সংস্থার পরিষেবা স্থগিত হতে চলেছে।

ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাবেই বলা হয়েছে, মার্কিন সংস্থাগুলির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে আমেরিকার লক্ষ্য মোটেই এই পরিস্থিতিকে জিইয়ে রাখা নয়। উল্টে একটি উন্নত পরিবেশ কাম্য, যেখানে উভয় পক্ষের সংস্থাগুলি তাদের দ্বিপাক্ষিক অধিকারগুলি পুরোমাত্রায় প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে।

পড়তে থাকুন

বিদেশ

গোটা বিশ্বে করোনামুক্ত হলেন ৩০ লক্ষ মানুষ

খবরঅনলাইন ডেস্ক: করোনার (Coronavirus) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনন্য একটি নজির তৈরি হল বুধবার। গোটা বিশ্বে করোনামুক্ত মানুষের সংখ্যা পেরিয়ে গেল ৩০ লক্ষের গণ্ডি। বিশ্বব্যাপী সুস্থতার হার এখন প্রায় ৪৭ শতাংশ।

এ দিনের সকাল সাড়ে আটটার হিসেব বলছে, গোটা বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্ত এখন ৬৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫৭১। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩০ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৩৮। মৃত্যু হয়েছে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার ৪১২ জনের। অর্থাৎ গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫২৯।

করোনায় এই মুহূর্তে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে দেশটি সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। সেখানে মোট আক্রান্ত প্রায় ১৯ লক্ষে এসে ঠেকেছে। মৃত্যু হয়েছে এক লক্ষ ৮ হাজার ৫৯ জনের। তবে স্বস্তির খবর এই যে সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ লক্ষ ৪৫ হাজার মানুষ। ফলে ১১ লক্ষের কিছু মানুষ সেখানে চিকিৎসাধীন।

করোনার আক্রমণ শুরুর দিকে যে যে দেশ ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, অর্থাৎ ইতালি আর স্পেনের পরিস্থিতি এখন খুবই ভালো। ইতালিতে (Italy) সুস্থ হয়েছেন ১ লক্ষ ৭০ হাজারের কিছু বেশি মানুষ। স্পেনেও (Spain) তাই। গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে নতুন করে করোনায় কোনো মৃত্যুও হয়নি।

জার্মানিতে (Germany) মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৫ হাজারের কাছাকাছি চলে গেলেও সে দেশে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাত্র ৯ হাজার মানুষ, সুস্থ হয়েছে এক লক্ষ ৬৬ হাজার। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে ব্রিটেনেও। ফলে সে দেশেও লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে ধীরে ধীরে।

তবে এখন বেশি চিন্তার কারণ ব্রাজিল (Brazil) আর রাশিয়া (Russia)। ব্রাজিলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৮ হাজার। তবে ব্রাজিলে সুস্থতার হার যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ইতিমধ্যেই সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষ। অন্য দিকে রাশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লক্ষ ২৩ হাজার মানুষ।

পড়তে থাকুন

দেশ

নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা বিষয়ে ফোনে কথা

trump and modi

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ফোনে কথা হল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের – ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। চিন-ভারত সীমান্ত সমস্যা-সহ (Indo-China border dispute) নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এল আলাপচারিতায়। মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই খবর দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব লাদাখে দু’ দেশের সৈন্য সমাবেশ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে সরকারি বিবৃতিতে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, তিনি ভারত-চিনের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু ভারত সরকারের শীর্ষ কর্তারা এই দাবি নস্যাৎ করে দেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক অতীতে দুই নেতার মধ্যে কোনো আলোচনাই হয়নি। চিনও ট্রাম্পের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। বলে, আলাপআলোচনা ও পরামর্শ আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে সমস্যা যথাযথ ভাবে মিটিয়ে নিতে দুই দেশ যথেষ্ট পারদর্শী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) সোমবার বলে, ভারতের (India) বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Actual Control) বরাবর চিনা আগ্রাসনে তারা খুব উদ্বিগ্ন। মার্কিন প্রতিনিধিসভার (US House of Representatives) বিদেশ বিষয়ক কমিটির (Foreign Affairs Committee) প্রধান এলিয়ট এঞ্জেল (Elliot Engel) বলেন, “নিয়ম মেনে চলার জন্য এবং কূটনীতি এবং প্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত প্রশ্ন মিটিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা চিনকে কড়া ভাবে অনুরোধ করছি।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে (G7 Summit) যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত-সহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গ্রুপের সদস্য-পরিধি বাড়ানোর যে ইচ্ছা তাঁর রয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা ব্যক্ত করেন।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে নাগরিক অশান্তি চলছে সে সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অশান্ত পরিস্থিতি দ্রুত মিটে যাওয়ার ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

দু’ দেশের কোভিড ১৯ (Covid 19) পরিস্থিতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organisation, হু) সংস্কারের বিষয়টি নিয়েও কথা হয় বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই হু-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ, গোড়ার দিকে করোনাভাইরাস (coronavirus) সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে হু ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অতিমারি মোকাবিলা করার ব্যাপারে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মাস খানেক আগে হু-কে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ ছিল, জেনেভা-ভিত্তিক এই সংস্থা আদতে চিনের হাতের পুতুল। তারা যদি কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে কার্যকর কিছু না করতে পারে তা হলে অর্থ সাহায্য বন্ধই থাকবে।

পড়তে থাকুন

নজরে