ওয়েবডেস্ক: তাঁর লড়াইটা ধর্মীয় গোঁড়ামিকে উপেক্ষা করে নারী শিক্ষার পথকে মসৃণ করার। অথচ নিজের পথটা বন্ধুর-ই থেকেছে বরাবর। কনিষ্ঠতম নোবেলজয়ী হওয়ার সুবাদে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি যেমন পেয়েছেন, একই সঙ্গে জুটেছে নিজেরই দেশের একদল মানুষের তীব্র নিন্দা, সমালোচনা। যার সাম্প্রতিকতম সংযোজন, জিন্স পরা ২০ বছরের মেয়েটার ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়। সদ্য স্কুলের গণ্ডী শেষ করে ভর্তি হয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। জিন্স পরে কলেজ যাচ্ছেন তরুণী মালালা ইউসুফজাই, এই ছবি ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ল নীতি পুলিশদের হাজারো মন্তব্য। মালালার সমর্থনে এবার মুখ খুললেন তাঁরই দেশের কমেডিয়ান জুনেইদ আক্রম। দিন কয়েক আগে এই সঙ্ক্রান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করেন জুনেইদ।

 

“এলন মাস্ক নতুন রকেট বানাচ্ছেন, আর এদিকে আমরা বসে বসে ঠিক করে দিচ্ছি, মেয়েরা কি পোশাক পরবে? আমরা এ সব ঠিক করে দেওয়ার কে?” ভিডিওতে সোচ্চার হলেন পাক কমেডিয়ান। খোদ পাকিস্তানিরাই প্রশ্ন তুলেছিলেন মালালার মাথায় আদৌ গুলি লেগেছিল কি না। সে প্রসঙ্গে জুনেইদ বলেছেন, “তাহলে মালালাকে প্রশ্ন করার আগে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে প্রশ্ন করুন। মালালাকে তো তাঁরাই উদ্ধার করেছিল”। দেশের মানুষের উদ্দেশে আক্রম আরও বলেন, “আপনারা বারবার প্রশ্ন করেন মালালা কেন দেশে ফেরে না, ২০ বছরের মেয়েটার দেশে ফেরার মতো পরিবেশ রেখেছেন আপ্নারা? ইন্টারনেটে পর্যন্ত মুখিয়ে থাকেন সমালোচনার জন্য। এ দেশে ওঁকে নিরাপত্তা দিতে পারবেন তো? পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের অধিকার আছে, যেখানে সে নিরাপদ বোধ করে সেখানে থাকার।”

সাত মিনিটের ভিডিওতে জুনেইদকে বলতে শোনা গেল, “পাকিস্তানিদের মনে বদ্ধমূল ধারণা মালালাকে বছর দশেকের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধান্মন্ত্রী হিসেবে বসিয়ে দেবে মার্কিন গয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।” এই ভয় নিয়ে যারা বাঁচছেন অথবা রোজ রোজ মরছেন, তাদের প্রতি জুনেইদের বার্তা, “একটা ২৭ বছরের মেয়েকে যদি ২৪-২৫ কোটি মানুষের মাথার ওপর বসানোও হয়, তাতে ভয় কী? একা অতগুলো মানুষের কী ক্ষতি করতে পারবে সে?”


ভিডিওর শেষে আগামী ২৮ অক্টোবর নিজের আয়োজন করা ক্রিকেট ম্যাচে দেশবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জুনেইদ আক্রম। উপস্থিত দর্শকদের পোশাক বিধি নিয়ে কী বললেন অভিনেতা? ”ক্রপ টপ, লো কাট জিন্স, যা ইচ্ছে হয় পরে আসুন খেলা দেখতে। কেউ কিছু বললে আমরা আছি। আমরা দেখে নেব।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here