pakistan elections and india

ওয়েবডেস্ক: বিভিন্ন দিক থেকে পাকিস্তানের নির্বাচন এ বার ঐতিহাসিক। কারণ পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম বার দশ বছরের ব্যবধানে তিন বার গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকার পেতে চলেছে সেই দেশ এবং আগের দু’টি সরকারই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে। আরও একটা কারণ হল, নতুন দল হলেও, প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে এসেছে ইমরান খানের তেহরিক-এ-ইনসাফ।

আগামী ২৫ জুলাই ভোট দেবে পাকিস্তান। ভোটের দিকে নজর থাকবে ভারতেরও। কারণ পাকিস্তানে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তাদের ভারতনীতি হবে ভিন্ন। সেই দিকেই আমরা একটু নজর দিই। দেখে নিই কোন দলের কাছ থেকে কী আশা করতে পারে ভারত

১) তেহরিক-এ-ইনসাফ: ইমরান খান

imran khan

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বারের নির্বাচনে শাসক পিএমএল (এন)-এর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে আসছে ইমরান খানের তেহরিক-এ-ইনসাফ। ইমরানের আশা, দুর্নীতি দূর করার ডাক দিয়েই তিনি মসনদে বসতে পারবেন।

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানে ২৪ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে ইমরানের দলে। তবে তিনি মনে করেন ক্ষমতা তিনি দখল করবেনই এবং ক্ষমতায় এলে গরিবদের দুর্দশা দূর করবেন। পিএমএল (এন) থেকে অনেকেই দলবদল করে ইতিমধ্যেই তেহরিক-এ-ইনসাফে নাম লিখিয়েছেন। জল্পনা চলছে ইমরানের দলকে ঘুরিয়ে সমর্থন করছে পাক সেনাও।

তবে ইমরান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের পক্ষে সেটা ভালো ব্যাপারে হবে না। নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখ না পেলেও তাঁর দলের অন্যতম দাবি হল কাশ্মীর সমস্যার সমাধান। কাশ্মীরে ‘ভারতের আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন তিনি। তিনি মনে করেন, কাশ্মীরে ভারত গণহত্যা চালায়। কাশ্মীরিদের ‘সুবিচার’ এনে দেওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। ভারতের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দাগায় গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও এক হাত নিয়েছিলেন তিনি।

২) পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ): শাহবাজ শরিফ

shahbaz sharif pakistan

কয়েক মাস আগে পর্যন্ত এই দলের হত্তা-কর্তা-বিধাতা ছিলেন নওয়াজ শরিফ। কিন্তু পানামা পেপারে নাম ওঠায় বদলে গেল পুরো পরিস্থিতি। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে এখন জেলে হাজতবাস করছেন দাদা শরিফ। তার বদলে দলের ক্ষমতা এখন ভাই শাহবাজের হাতে। তিনি এখন দলের সভাপতি।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে পিএমএল (এন)-এর এখন ৩৬ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। অর্থাৎ, সামনের নির্বাচনে পিএমএল (এন)-এর ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। তেমন হলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শাহবাজ নিজেই।

সত্যি কথা বলতে কী, পিএমএল (এন) ভারতের কাছে এখন সেরা বাজি। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মোদীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন নওয়াজ। তার জন্য দেশের মধ্যে বিরোধিতার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। কাশ্মীর ইস্যুতেও নরমপন্থা নেওয়ার ব্যাপারে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে বারবার। সেই কারণে ভারত চায় ক্ষমতায় পিএমএল (এন) ফিরে আসুক।

৩) পাকিস্তান পিপল্‌স পার্টি: বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি

bilawal bhutto

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিপির পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করার সম্ভাবনা কার্যত নেই। সমীক্ষাও জানিয়েছে দেশের মধ্যে এখন মাত্র ১৭ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে এই দলের। এর মূল কারণ অবশ্য দুর্নীতি।

২০০৮-এ পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছিল পিপিপি। তার কিছু দিন আগেই খুন হয়ে গিয়েছেন বেনজির ভুট্টো। মানুষের সহানুভূতি ভোটের জোরেই ক্ষমতায় আসে পিপিপি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকে বারবার দুর্নীতির অভিযোগে জনপ্রিয়তা কমতে থাকে এই দলের। মূলত দুর্নীতির কারণেই গত বারের নির্বাচনে কার্যত মুছে যায় তারা।

এ বার অবশ্য নতুন উদ্যমে নেমেছে দল। বেনজির-পুত্র বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বে নির্বাচনে লড়ছে তারা। কোনো ভাবে ক্ষমতা দখল করলে প্রধানমন্ত্রী হবে বিলাওয়াল। কিন্তু ভারতের পক্ষে সেটা খুব সুখের হবে না। কারণ কাশ্মীর ইস্যুতে বারবার ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বিলাওয়াল। এমনকি মোদী-শরিফ সখ্যতা নিয়েও তোপ দেগেছেন তিনি। তবে এ বারের নির্বাচনী ইস্তেহারে কাশ্মীর নিয়ে বেশি কথা খরচা না করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকেই জোর দিয়েছে পিপিপি।

এখন দেখার পাকিস্তানে কে ক্ষমতায় আসে এবং তাদের ভারতনীতি কী হয়। সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ২৬-২৭ জুলাই।

সূত্র: দ্য কুইন্ট

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here