‘হু’-এর রিপোর্ট বলছে, এই বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ও বায়ুদূষণের ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে সেই বিষয়টি সামনে আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) মঙ্গলবার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করল। রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় কেবল দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার ফলে।

হু-এর মানুষ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দফতরের বিভাগীয় প্রধান মারিয়া নেইরা বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নতুন তথ্য আমাদের সচেতন হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। এখন সময় এসেছে সচেতন হওয়ার, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।  হু-র বিশেষজ্ঞরা জানান,  বায়ুদূষণের প্রভাব শহরগুলিতে মারাত্মক। আর গ্রামগুলির বায়ুও সাংঘাতিক দূষিত, যা খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের দৃশ্যই এক।

মারিয়া বলেন, প্রথম পদক্ষেপেই এই দূষণ প্রতিরোধ করা যাবে তা নয়। এর জন্য সব দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। দূষণ কমাতে হলে প্রথমেই রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমাতে হবে। পাশাপাশি, আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে, ব্যবহার করতে হবে দূষণমুক্ত জ্বালানি।   

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তিন হাজারের বেশি জায়গার তথ্য সংগ্রহ করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। যাতে ৯২% এলাকাই ‘হু’ নির্ধারিত দূষণমাত্রা অতিক্রম করে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন,  আড়াই মাইক্রোমিটারের কম ব্যাসযুক্ত অসংখ্য দূষিত কণা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যেই রয়েছে টক্সিন, কার্বন, সালফেটের মতো ক্ষতিকর পদার্থগুলিও, যেগুলি প্রতিনিয়ত নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে যাচ্ছে। এই দূষণ-কণার পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম হলেই তা খুবই সাংঘাতিক।

নেইরা বলেন, বায়ুদূষণের ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ও বড়োসড়ো পদক্ষেপ করতে অন্যান্য ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যও নেওয়া হবে।

হু-এর মতে, ৬০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হল, ঘরে ও বাইরের দূষিত বায়ু।  তার মধ্যে বাইরের বায়ুদূষণের ফলেই মৃত্যু হয় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের। তবে ঘরের বায়ু দূষিত হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রান্নার জন্য কয়লা ব্যবহারের ফলে।  

দূষণের ফলে ৯০% মৃত্যুই হয় কম আর মাঝারি আয়ের দেশগুলিতে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা। বিশেষত, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম  ও চিন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here