নেপিড (মায়ানমার): রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে মুখ খুললেন মায়ানমারের নেত্রী আউং সাং সুকি। রোহিঙ্গারা কেন দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করা হবে বলে জানালেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাখাইন প্রদেশের ‘হিংসায় আক্রান্ত সব মানুষের প্রতি’ সহানুভুতি পোষণ করেন সুকি। সেই সঙ্গে ওই প্রদেশে ঘটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ঘটনাকে নিন্দা করার পাশাপাশি এই হিংসায় দায়ী সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

Loading videos...

তিনি বলেন, “যে ভাবে এত বিপুল সংখ্যক মুসলিম বাংলাদেশে চলে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে আমরা চিন্তিত। তাদের ফিরিয়ে আনার যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।” সেই সঙ্গে সুকি বলেন, রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ব্যাপারেও চিন্তিত নন তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নতুন করে অত্যাচার শুরু করেছে মায়ানমার সেনা। এর ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় চার লক্ষ দশ হাজার রোহিঙ্গা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর খুব একটা নিয়ন্ত্রণ নেই ৭২ বছরের নোবেলজয়ী এই নেত্রীর।

কিছু দিন আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ হবে সুকি’র কাছে শেষ সুযোগ। কিন্তু এই ‘শেষ সুযোগ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেটি ব্যাখ্যা করেননি রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব। জাতি হিসেবে রোহিঙ্গাদের মুছে ফেলা হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশন থেকে কিছু দিন আগেই নাম তুলে নিয়েছিলেন সুকি। মনে করা হচ্ছিল রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.