ওয়াশিংটন: এ বার যৌথ ভাবে ড্রোন তৈরি করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত। বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, লক্ষ্য চিনের মোকাবিলা। পন্থা হিসাবে দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় ওয়াশিংটন।

ওই আধিকারিক জানান, ভারত শুধু ওই ড্রোনগুলি তৈরি-ই করবে না, পাশাপাশি নিজের অঞ্চলের অন্যান্য দেশে তা রফতানিও করবে।

নিজের অস্ত্রসম্ভারে বৈচিত্র আনতে চায় ভারত। মূলত রাশিয়ার তৈরি অস্ত্রেই এত দিন নির্ভর করে এসেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু সেই পরিস্থিতি ক্রমশ বদলাচ্ছে। এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সাশ্রয়ী মূল্যে রফতানি করবে ভারত

আমেরিকার ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব এলি র‍্যাটনার সাংবাদিক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে বলেন, “আমরা উভয় দিক থেকে ভারতকে সমর্থন করতে চাই। এবং সেটা করছিও। অর্থাৎ, এক দিকে যেমন আমরা ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন করতে চলেছি এবং তেমনই উন্নয়নেও মনোনিবেশ থাকছে। এতে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ লক্ষ্যগুলি সহজ হবে”।

তিনি জানান, উৎপাদিত অস্ত্র “সাশ্রয়ী মূল্যে” দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-সহ সমগ্র অঞ্চল জুড়ে আমাদের অংশীদার দেশগুলিকে রফতানি করতে পারবে ভারত। যুদ্ধবিমান এবং অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ড্রোন তৈরির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আশা করছি খুব শীঘ্রই এ বিষয়গুলি নিয়ে সরকারি ঘোষণা সম্ভব হবে”।

ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিনের বেশ কিছু পদক্ষেপ সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌজন্যে এখন অনেক কাছাকাছি দুই দেশ।

বলে রাখা ভালো, ২০১৬ সালে ভারতকে একটি “প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার” হিসাবে মনোনীত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার পর হয়েছে চুক্তি। ওই চুক্তির মাধ্যমে টপ-গ্রেডের অস্ত্র লেনদেন সহজ করার মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতাকে আরও গভীরতর করেছে দুই দেশ।

তবে চাপানউতোর যে নেই, সেটাও নয়। সম্প্রতি পাকিস্তানের এফ-১৬ ফাইটার জেটের আধুনিকিকরণের জন্য আমেরিকা যে আর্থিক সাহায্য দিয়েছে তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারত। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই সাহায্য যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত শতাব্দীর আটের দশকে এই যুদ্ধবিমানগুলি আমেরিকার কাছ থেকে কিনেছিল পাকিস্তান। যেগুলি এখন কার্যত অকেজো। সেগুলিরই রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডের জন্য এই সহায়তা বলে দাবি করেছে আমেরিকা।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন