hunting

ওয়েবডেস্ক:  রাজা দশরথ বা পাণ্ডুর সঙ্গে এই শিকারির অমিল কেবল এক জায়গায়! রামায়ণ, মহাভারতের এই দুই রাজাই হরিণ ভেবে শিকার করেছিলেন পুরুষকে। আর পশ্চিম নিউ ইয়র্কের এই শিকারি সেই ভ্রমেই প্রাণ নিলেন নারীর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম নিউ ইয়র্কের পেনসিলভ্যানিয়া বর্ডারের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার। রোজমেরি বিলকুইস্ট নামের ওই নারী রোজকার মতোই দুই কুকুর নিয়ে বেরিয়েছিলেন বিকেলবেলায়। পোষ্যদের হাওয়া বদলের জন্য এই সময় নির্দিষ্টই ছিল তাঁর দিনের রুটিনে।

বুধবার বিলকুইস্ট পোষ্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন পেনসিলভ্যানিয়া বর্ডারের কাছে এক প্রান্তরে। তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আলো আর নেই আকাশে। সেই সময়েই ঝোপের অন্য দিকে সামান্য নড়াচড়ার শব্দ পেয়ে বন্দুক তাক করেন শিকারি। কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা, তার পরেই নিশানা স্থির করে গুলি ছোড়েন তিনি। ভেবেছিলেন পড়ে থাকবে হরিণের দেহ, বদলে শুনতে পেলেন নারীকণ্ঠের আর্ত চিৎকার। পুলিশি জেরায় এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওই শিকারি।

তবে কাছে গিয়ে বিলকুইস্টকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পালিয়ে যাননি তিনি। বরং দ্রুত ফোন করেন আপৎকালীন পরিষেবার নম্বরে। যতক্ষণ না অ্যাম্বুল্যান্স আসে, ততক্ষণ তিনি ঠায় বসে ছিলেন বিলকুইস্টের পাশে। তাঁকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনও তিনি সঙ্গে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বিলকুইস্টকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনাটি বিতর্ক তৈরি করেছে পশ্চিম নিউ ইয়র্কের ওই অঞ্চলে। শুধু হরিণ ভেবে নারী শিকারের জন্যই নয়, ওই শিকারির বিরুদ্ধে রয়েছে আইনভঙ্গের অভিযোগও। পুলিশের এক কর্তাব্যক্তি জানিয়েছেন, “সন্ধে নামার ৪০ মিনিট পরে স্থানীয় আইন অনুযায়ী শিকার নিষিদ্ধ। কিন্তু শিকারিরা শিকারের লোভে এ সব নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না”, জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে। এখনও পর্যন্ত ওই শিকারির বিরুদ্ধে কোনো চার্জ আনা না হলেও তাঁর রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা কম। “শিকারিদের বোঝা উচিত, শুধু পশুই নয়, ওই অঞ্চলে মানুষও তো ঘুরে বেড়ায়। কাজেই সব দিক বিবেচনা করে তবেই গুলি ছোড়া উচিত। তা ছাড়া সন্ধের পর এমনিতেও শিকার নিষিদ্ধ। উনি আইন যেমন ভেঙেছেন, তেমনই অনিচ্ছাকৃত ভাবে হলেও হত্যা করেছেন এক নারীকে। তার শাস্তি তো পেতেই হবে”, বলছেন স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবিদরা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here