ওয়াশিংটন: কর্মী এবং আধিকারিকদের ভ্রমণ বাবদ বার্ষিক ২০ কোটি ডলার খরচা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সম্প্রতি তথ্য সামনে এনেছে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। আরও অবাক করা সত্যিটা হল, ভ্রমণের জন্য খরচা করা এই বিপুল অর্থের পরিমাণ পৃথিবী জুড়ে ম্যালেরিয়া বা এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যয় করা অর্থের চেয়ে অনেকটাই বেশি। ২০১৬ সালে এইডস-হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া এবং টিউবারকুলোসিসের চিকিৎসায় হু-এর খরচা হয়েছিল যথাক্রমে ৭.১, ৬.১ এবং ৫.৯ কোটি মার্কিন ডলার।

বিশ্বের প্রথম ইবোলা ভ্যাক্সিন চালু করার উপলক্ষে গত মাসেই আফ্রিকার গিনিতে গিয়েছিলেন হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল মার্গারেট চ্যান। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সে দেশের বিলাস বহুল হোটেলে রাত কাটান চ্যান। এমন হোটেল, যেখানে দিন প্রতি ঘর ভাড়া ৯০০ ইউরো (এক হাজার ৮ মার্কিন ডলার)।

পৃথিবী জুড়েই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তার সঙ্গে লড়াই করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছেও অর্থ সাহায্য চাইছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অথচ নিজেদের সংস্থার কর্মীদের (সংখ্যায় প্রায় হাজার সাতেক) ভ্রমণের খরচ কমাতে ব্যর্থ তারা। কর্মীদের ইকনমি ক্লাসের পরিবর্তে বিমানের বিজনেস ক্লাসে যাতায়াত, পাঁচ তারা হোটেলে রাত্রি যাপন, ইত্যাদি অভ্যাস নিয়ে ক্রমেই অসন্তোষ জমছে সংস্থার উচ্চ আধিকারিকদের মধ্যে।

হু-এর ডিরেক্টর অব ফিনান্স নিক জেফ্রি জানিয়েছেন, ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মীদের চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায় না। ভ্রমণ আদৌ সঙ্গত কারণে করা হচ্ছে কিনা, হোটেল বাছাইয়ের সময় সবচেয়ে সস্তার হোটেল নেওয়া হচ্ছে কিনা, এ সব খেয়াল না রাখলেই নিয়ম লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা যায়। কর্মীদের ভ্রমণ সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা গত বছরই জারি করা হয়েছিল সংস্থার পক্ষ থেকে, কিন্তু তা মানা হয়নি। হু-এর সাতটা বিভাগের মধ্যে মাত্র ২ টো বিভাগ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে খরচ কমিয়েছিল।

২০১৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারীর মতো ছড়িয়েছিল ইবোলা। এই মারণ রোগের চিকিৎসার খাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল হু’র। অথচ এই সময়েই সংস্থার কর্মীদের আফ্রিকা পাঠাতেই ২৩ কোটি মার্কিন ডলারের চেয়েও বেশি ব্যয় হয় এই সংস্থার। শুধু ডিরেক্টর জেনেরাল চ্যানের যাতায়াত, থাকা খাওয়া বাবদ ৩ লক্ষ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছিল সেই বছর। বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই মত, বিপুল খরচের সমস্যা শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একার নয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের সব বিভাগেরই কম বেশি এই সমস্যা। স্বাভাবিক ভাবেই তুলনা চলে আসছে আরেক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’- এর সঙ্গে। এই সংস্থার প্রেসিডেন্টেরও ইকনমি ক্লাসেই যাতায়াত বাধ্যতামূলক। সঙ্গত কারনেই এদের কর্মীদের দেশ দেশান্তরে ভ্রমণ বাবদ  বার্ষিক খরচা হু-এর চার ভাগের এক ভাগ, কিংবা তারও কম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here