world populations day

ওয়েবডেস্ক: আরও একটা বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ১৯৮৯ সালে থেকে টানা তিন দশক ১১ জুলাই এই দিনটি বিক্ষিপ্ত ভাবেই সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ঠিক যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই দিবস পালনের উদ্ভাবন, তা কতটা সফল হচ্ছে?

১৯৮৯ সালে যখন প্রথমবার এই দিনটি পালিত হয়, তখন বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৫২৫ কোটি। ৩০ বছর পরে সেই সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৭৭০ কোটিতে। এ ভারে এগোতে থাকলে পৃথিবীতে জনসংখ্যার ভারসাম্য এর পর কোথায় গিয়ে পৌঁছবে? আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউএসএ টুডে-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ভাবে এগোতে থাকলে আগামী ২০৩০ সালে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা পৌঁছাবে ৮৫০ কোটিতে। অন্য দিকে ২১০০ সালে ওই জনসংখ্যাই গিয়ে ঠেকবে ১১০০ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রথমবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের ৩০ বছরে যে পরিমাণ জনবিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ওই মেয়াদে।

পপুলেশন রিফেরেন্স ব্যুরো বা পিআরবির প্রকাশিত ২০১৮ ওয়ার্ল্ড পুপুলেশন ডেটা শিট-এ উঠে এসেছে বিশ্বের দ্রুত জনসংখ্যাবৃদ্ধির দেশগুলির যাবতীয় তথ্য।

এই রিপোর্ট থেকেই প্রকাশ, চিন, ভারত এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলিই সব থেকে জনবহুল। তবে এই দেশগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ততটা নয়।

পিআরবির সাম্প্রতিক জনসংখ্যার তথ্য বলছে, আফ্রিকা ও এশিয়ার ২০টি দেশে দ্রুত হারে বাড়ছে জনসংখ্যা। যার সঙ্গে অগাধ ফারাক রয়েছে চিন-ভারত-আমেরিকার বৃদ্ধির হারে। ওই হার দেখেই অনুমান করা হচ্ছে, এ ভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে আফ্রিকা এবং এশিয়ার ওই সমস্ত দেশগুলিতে অস্বাভাবিক জনবিস্ফোরণ ঘটবে। এর কারণ অবশ্য নিহিত রয়েছে, ওই সমস্ত দেশগুলির মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি। একই সঙ্গে মৃত্যুর হার হ্রাস এবং নবীন প্রজন্মের আধিক্য এবং সেই জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চ প্রজনন হার।

নেতিবাচক প্রভাব

১. বৃহত্তর জনসংখ্যা সমাজের বিভিন্ন এলাকায় ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করতে পারে। এর ফলে দারিদ্র্য দ্রুত হারে বাড়তে পারে। যার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। পিআরবির ওই রিপোর্ট বলছে, পরিবারের আকার ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় তা ভাঙছে, নতুন পরিবারের জন্ম দিচ্ছে। দ্রুত হারে জনসংখ্যা বাড়া দেশগুলির জিডিপি দারিদ্র্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীচের দিকে নামছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংস্থান ক্রমশ সংকুচিত হওয়ার সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদগুলির উপর চাপ বাড়তে পারে, যেমন বনাঞ্চল এবং জলাধার, যা পরিবেশ রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তা দখলে চলে যাচ্ছে মানুষের।

পরিত্রাণের পথ

অর্ধ শতাব্দী আগেই পরিবার পরিকল্পনা মানুষের অধিকার হিসাবে স্বীকৃত পেয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় খামতি রয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ দেশেই। ফলে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনা বৃদ্ধিই অন্যতম পরিত্রাণের উপায় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তা বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজন বিশাল পরিমাণ অর্থের। বিশ্বের সমস্ত দেশ একত্রিত হয়ে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে। তবে তার গতি অতি মন্থর!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here