বার্সেলোনা : স্পেনের সংকট আরও বাড়ল। গণভোটের পর জয় হল স্বাধীনতার দাবিদারদের। আর জয় আনতে স্পেনের পুলিশের হাতে আহত হলেন ৮০০-রও বেশি মানুষ।

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটে ৯০% মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। কাতালান আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র জর্ডি টুরুল বলেন, মোট ২২ লক্ষ ৬০ হাজার কাতালান ভোটার ভোট দিয়েছেন। সোমবার সকালের গণনা অনুযায়ীই তার ৯০%-ই স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। বাকি ১০%-এর মধ্যে ৮% এই নির্বাচন বয়কট করেছে। বাকি ২% মানুষের ব্যালট খালি রয়েছে বা নষ্ট করা হয়েছে। ১৫০০০ ভোট এখনও গণনা করা হচ্ছে। বিতর্কিত এই গণভোট রদ করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কাতালান প্রেসিডেন্ট কারলেস পিগডেমন্ড নির্বাচনের শেষে বলেছেন, হ্যাঁ পক্ষের জয় হলে স্পেন থেকে কাতালোনিয়াকে আলাদা করে দেবেন। কাতালোনিয়াকে স্বাধীন ঘোষণা করে তাঁর প্রতিশ্রুতি পালন করবেন।

পিগডেমন্ড বলেন, স্পেনের ইতিহাসে এটা একটা লজ্জাজনক অধ্যায়। স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট চলার সময় মানুষের ওপর নৃশংস অত্যাচার করা হয়। তাদের মানবাধিকার হরণ করা হয়। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে এই ব্যাপারটা দেখার জন্য আবেদন জানাবেন।

টুরুল বলেন, নথিভুক্ত মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৩ লক্ষ। কিন্তু অনেক ব্যালটের গণনা করা যায়নি। কারণ গণভোট বানচাল করার লক্ষ্যে পুলিশ সেগুলো বাজেয়াপ্ত করেছে।

সংশ্লিষ্টমহল মনে করছে, উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের মতো সমৃদ্ধশালী এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্পেন বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এই এলাকার মধ্যে রয়েছে বার্সেলোনার মতো জনপ্রিয় উপকূলীয় শহরও।

স্পেন সরকার জানিয়েছে, এই গণভোট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, সেই মোতাবেকই কাজ করেছে পুলিশ। এই ঘটনা বেআইনি আর অসাংবিধানিক। প্রধানমন্ত্রী মেরিয়ানো রাজয় বলেন, ভোটের ফল অনুযায়ী চললে বিভাজন আসবে।

স্বায়ত্তশাসন থাকলেও নানা কারণে দীর্ঘ দিন ধরে স্বাধীনতা চেয়ে আসছে কাতালোনিয়া। স্বাধীনতার স্বপক্ষে থাকা আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হয়, তা হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে কাতালোনিয়া।

কাতালান স্বাস্থ্যপরিষেবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ দিন প্রায় ৮৪৪ জন মানুষ আহত হয়। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। এদের মধ্যে ২ জন গুরুতর ভাবে আহত হয়। এক জনের চোখে আঘাত লাগে। ৩৩ জন পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলফানসো দাস্তিস বলেন, জনতা বিশৃঙ্ঘলা করলে, আইন ভঙ্গ করলে আইনরক্ষাকারীদের তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়।

বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে দেখা গেছে নিরস্ত্র জনতার ওপর হামলা চালাচ্ছে পুলিশ। তারাও পালটা হামলা করেছে আত্মরক্ষা করতে।

এক জন ভোট দাতা এলিসা আরুচা। তিনি বলেন, তিনি ভেবেছিলেন ‘না’-এ ভোট দেবেন। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক পুলিশকর্মী তাকে টেনে সরিয়ে দেয়। বাকিদেরও ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তার পর কেন্দ্রের মধ্যে থেকে ব্যালটবক্স বাজেয়াপ্ত করে। এই সব দেখে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here