হারারে: যাঁরা নগদ অর্থ দিতে পারবেন না, তাঁরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলের মাইনে গবাদি পশু দিয়ে শোধ করতে পারবেন। এমনকি স্কুলে নানা ধরনের সেবামূলক কাজ করেও তাঁরা বেতন মেটাতে পারবেন। দেশে চরম নগদ সংকটের মুখে পড়ে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিম্বাবোয়ে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগ হাসি-মস্করার ঝড় তুলেছে সে দেশে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে নানা ব্যঙ্গ-কটূক্তি ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।

দেশের শিক্ষামন্ত্রী কাজারুস ডোকোরা বলেছেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে ছেলেমেয়েদের বেতন আদায়ের সময় স্কুলগুলিকে নমনীয় হতে হবে। তাঁরা গবাদি পশু দিয়ে বেতন মেটাতে পারেন, আবার স্কুলের জন্য কোনো  কাজ করে দিয়েও বেতন মেটাতে পারেন। যেমন ধরা যাক, কোনো অভিভাবক রাজমিস্ত্রির কাজ জানেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে দিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করিয়ে নিতে পারে।

সরকারপন্থী ‘সানডে মেল’ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কোনো কোনো স্কুল নগদ অর্থের বদলে গবাদি পশু নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিলে যাতে গবাদি পশু, মোটরগাড়ি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ব্যাঙ্কে জামানত হিসাবে রাখা যায়, তার জন্য গত সপ্তাহে জিম্বাবোয়ের পার্লামেন্টে ‘দ্য মুভেবল প্রপার্টি সিকিউরিটি ইন্টারেস্টস বিল’ নামে একটি বিল পেশ করা হয়েছে।

বেতনের বদলে গবাদি পশু দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সমাজকর্মী আইনজীবী ফাদইয়াজি মাহেরে টুইট করেছেন, “ব্যাঙ্ক ঋণ পেতে গরু-ছাগল জামানত রাখতে হবে, গরু-ছাগল দিয়ে স্কুল-ফি দিতে হবে। খুব শীঘ্রই গবাদি পশু রাখার জন্য একটা সংরক্ষিত খোঁয়াড় চাই।” আরেক সমাজকর্মী মহিলা ব্যবসায়ী নোমাথেম্বা প্রিমরোজ দেবেলে তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, “কী ভাবে দিচ্ছেন? সোয়াইপ, ইকোক্যাশ, নগদ না ছাগল?” হোয়াটস অ্যাপে ছাগলের ছবি দিয়ে তার নীচে লেখা হয়েছে, “ব্রেকিং নিউজ: জিম্বাবোয়ে নতুন মুদ্রা চালু করল।”

সে দেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে চরম নগদ-সংকট চলছে। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে। তার পরেও টাকা মিলবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সরকারের অভিযোগ, এক শ্রেণির মানুষ দেশ থেকে টাকা পাচার করছে বলে এই সমস্যা। কিন্তু তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করে, শিল্পে বিনিয়োগ না হওয়া এবং বেকারত্বই এই নগদ-সংকটের জন্য দায়ী। একের পর এক শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। সরকারের রাজস্ব আদায় দিন দিন কমছে। সরকার তার আমলাদের পর্যন্ত বেতন দিতে পারছে না।

১৯৮০ সালে ব্রিটেনের হাত থেকে স্বাধীনতা পায় জিম্বাবোয়ে। সে সময়ের অবিসংবাদী নেতা রবার্ট মুগাবেকেই এই চরম সংকটের জন্য দায়ী করছে দেশবাসী। তাঁরা মনে করেন, তাঁর ভ্রান্ত নীতির জন্যই এক সময়ের রমরমা অর্থনীতির দেশটি আজ ধুঁকছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here