নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : হালকা কুয়াশা, আদুরে রোদ গায়ে মেখে চলে এসেছে শীত। শীতকাল আর পিকনিক যেন সমার্থক। আর পিকনিক মানেই আনন্দ, হুল্লোড়। সেই সঙ্গে ‘আবশ্যিক’ মদ্যপান আর আবর্জনা। আনন্দ, হুল্লোড় করে সকলে চলে যাওয়ার পর দেখে মনে হয় পিকনিক স্পট নোংরা করা যেন ‘নাগরিক অধিকার’।

জলপাইগুড়িতে তথা ডুয়ার্স জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পিকনিক স্পট। সব জায়গাতেই একটা জিনিস ‘কমন’। পিকনিকের পর গোটা এলাকা জুড়ে আবর্জনা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থার্মোকলের পাতা, বাটি, গ্লাস। চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের গ্লাস। আর ছড়িয়ে ছটিয়ে থাকা দেশি-বিদেশি মদের বোতল। পিকনিক শেষে এলাকার অবস্থা প্রায় ‘মর্গ’-এর মতো।

এ বার এই সব ‘নোরাংমি’ বন্ধ করতে কড়া হচ্ছে প্রশাসন। বুধবার বন দফতর, পুলিশ, স্থানীয় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন জলপাইগুড়ি সদর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তাপসী সাহা।

গুরুত্বপূর্ণ পিকনিক স্পটগুলিতে চলবে এ বার নজরদারি। সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে মদ্যপান। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। থার্মোকলের পরিবর্তে শাল পাতা বা কাগজের থালা-গ্লাস ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া হবে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা যাবে না ব্যাবহার করা জিনিস। নির্দিষ্ট জায়গায় তা ফেলতে হবে। শালপাতার থালা-বাটি জোগান দেবেন স্থানীয় বাসিন্দারা, এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে কিছুটা। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি তথা ডুয়ার্সের সবুজ অরণ্যেই অধিকাংশ পিকনিক স্পট। সেখানাকার বন-বস্তিবাসীরা শাল পাতার জিনিস তৈরি করেন। এ সবের ব্যবহার বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান। বাঁচবে পরিবেশ।

সাধারণ মানুষ যাতে আনন্দ করতে এসে বিপদে না পড়েন সে দিকে খেয়াল রাখবেন পুলিশকর্মীরা। এ ছাড়া পিকনিকে আসা গাড়িগুলিও থাকবে নজরদারির আওতায়। গাড়িতে মদ থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।এ ছাড়া এ বার থেকে পিকনিক স্পটগুলো থেকে ‘এন্ট্রি ফি’ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাপসী সাহা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here