নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, ‘ক্যাশলেস ইন্ডিয়া’র স্লোগান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমজনতা ধীরে হলেও সেই পথে যে একটু একটু করে হাঁটছে তার প্রমাণ জলপাইগুড়ি জেলা বইমেলা।

১৯ ডিসেম্বর বিশ্ববঙ্গ ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে ২৮তম জলপাইগুড়ি জেলা বইমেলা। নোট বাতিল এবং চাহিদামতো নতুন নোটের যোগান না থাকায় রাজ্যের বিভিন্ন মেলা মুখ থুবড়ে পড়েছে। কিন্তু ঠিক উলটো চিত্র জলপাইগুড়ি বইমেলায়। শুরুর দিন থেকেই ভিড় উপচে পড়েছে এখানে। কেনাকাটাও চলেছে পুরোদমে।

গত বছর সাত দিনে বইমেলায় ১৪ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়েছিল। এবার মাত্র  ছ’দিনেই সেই অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেছে মেলাতে বই বিক্রি। রবিবার শেষ দিনে গত বছরের রেকর্ড ভেঙে অঙ্কটা প্রায় ২২ লক্ষ পার করেছে বলে দাবি মেলার উদ্যোক্তা জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারের আধিকারিক দেবাশিস দে-র।

এমনিতে জলপাইগুড়ি সংস্কৃতিমনস্ক শহর বলে পরিচিত। তাই এই বইমেলায় আসতে মুখিয়ে থাকে প্রকাশনা সংস্থাগুলি। তবে এ বারে নোট বাতিলের জেরে তার প্রভাব বইমেলায় পড়ার আশঙ্কা করেছিলেন তারা। তবে মেলা শুরু হতেই তাদের দুশ্চিন্তার মেঘ কেটে যায়।

প্রথম দিন সে ভাবে না হলেও দ্বিতীয় দিনেই প্রায় দু’ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয় মেলায়। ধীরে ধীরে তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এক বিখ্যাত প্রকশনা সংস্থার কর্মী অসিত মুখার্জি।

jalpai-1কিন্তু টাকার আকালের বাজারে এই ঘুরে দাড়ানোর মন্ত্র কী? বইমেলায় ‘ক্যাশলেস’ পরিষেবাই এর জাদুকাঠি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা। পেটিএম, সোয়াইপ কার্ড সহ চেকেও পেমেন্টের ব্যবস্থা রেখেছে বেশির ভাগ বইয়ের স্টল। আনন্দ, দে’জ, মিত্র ও ঘোষ তো বটেই। তাতেই বিক্রি হয়েছে দেদার। যাঁরা এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নন তাঁদের সাহায্য করেছেন স্টলের কর্মীরা। প্রয়োজনে ক্রেতাদের পেটিএম’র অ্যাপ ডাউনলোড করে দিয়েছেন তাঁরা।

আর যাঁরা পুস্তকপ্রেমী তাঁরাও নগদ টাকা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে নোট সমস্যাকে হারিয়ে খুঁজে নিয়েছেন বইয়ের আনন্দ। আর এক বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার কর্মী প্রসাদ গুপ্তর কথায়, বইয়ের চাহিদা এবং বিক্রি দেখে তারা মুগ্ধ। খুশি ক্রেতারাও। শহরের এক বাসিন্দা বইপ্রেমিক দিলীপ সেন বলেন, প্রকাশনা সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ক্রেতাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here