নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : “সিআইডি তদন্তে খুশি নই, সিবিআই তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে”, জলপাইগুড়ি আদালতে পেশের পর দাবি গ্রেফতার হওয়া বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরীর। বুধবার জলপাইগুড়ি আদালতে তুলে তাঁকে ১২ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি। ইতিমধ্যে জুহি ও তাঁর বাবাকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   

বুধবার বেলা পৌনে একটা নাগাদ মাটিগাড়া থানা থেকে জুহিকে নিয়ে জলপাইগুড়ি আদালতে এসে পৌছয় সিআইডি। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যের খবরে শিরোনামে থাকা শিশুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত জুহি চৌধুরীকে দেখতে ভিড় ভেঙে পড়ে আদালত চত্বরে। সেই ভিড়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি, এমনকি বিজেপির কিছু নেতাও শামিল ছিলেন। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিশাল পুলিশবাহিনীকে। তিনটে নাগাদ জুহিকে এজলাসে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। তাঁর হয়ে আদালতে হাজির ছিলেন ৪ জন আইনজীবী। সরকার পক্ষ ও অভিযুক্ত জুহির আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন বিচারক। জুহির বিরুদ্ধে শিশুপাচার, প্রতারণা, ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা করেছে সিআইডি, যা জামিনঅযোগ্য। তদন্তের খাতিরে জুহিকে জেরা করার জন্য তাঁকে ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায় সিআইডি। সরকার পক্ষের আইনজীবী প্রদীপ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন,  দু’ পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর ১২ দিনের সিআইডি হেফাজত মঞ্জুর করেন বিচারক। রায়ের পরে বিকেলে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়া হয় জুহিকে। তাঁকে সেখানে রেখেই চলবে জেরা-পর্ব। চন্দনা চক্রবর্তীর মুখোমুখি বসিয়ে তাঁকে জেরা করা হবে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি, জুহি জালে পড়ায় তাঁকে জেরা করে শিশুপাচার কাণ্ডে আরও বহু তথ্য মিলবে। উঠে আসতে পারে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালীর নাম। তিনি নিজে এই ঘটনায় আরও কতটা জড়িত তা-ও পরিস্কার হবে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

যদিও আদালতে পেশের আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জুহি জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে এ দিন কিন্তু দলের কেউ জুহির পাশে দাঁড়াননি। বরং সুর পালটে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন,  শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আজই জুহিকে মহিলার মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জুহির বাবা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য রবীন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীকেও।

মঙ্গলবার রাতে ভারত-নেপাল সীমান্তের বাতাসী এলাকা থেকে বিজেপি নেত্রী জুহিকে গ্রেফতার করে সিআইডি। জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তীর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে জুহির বিরুদ্ধে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনা চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন