fish-1

ওয়েবডেস্ক: মানুষের শরীরে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে অথবা মরণাপন্ন রোগীকে কিছুক্ষণের জন্য চাঙ্গা করে রাখতে ব্যবহৃত হয় এই স্টেরয়েড।শবদেহের ব্যবচ্ছেদের আগে সেটিকে জীবাণু-রহিত করতে প্রয়োগ করা হয় ফরম্যালিন। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এমনই কিছু মারাত্মক রাসায়নিক কেউ কেউ মেশাচ্ছে বাঙালির প্রিয় মাছে।

দুপুর বারোটার সময় বাজারে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, জ্যান্ত মাছেরা কেমন খিলখিলিয়ে হাসছে। দর কষাকষির মাঝেই তার ঝাপটায় ভিজে যাচ্ছে পা। সেই কোন সকালে জালে ওঠা লাইলন টিকার বা চারা পোনারা কী করে এতক্ষণ বাঁচে, ভেবে দেখেছেন কি কখনও।

fish2

সমীক্ষকরা দেখেছেন, জল থেকে ডাঙায় তোলার পরই বিশেষ কিছু মাছকে চুবিয়ে নেওয়া হয় স্টেরয়েড মোশানো জলে। যে স্টেরয়েড দ্রুত ওই মাছের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে রক্তের মাধ্যমে।তারপর তাকে আর পায় কে। সাধারণত চিকিৎসাশাস্ত্রে এই জাতীয় স্টেরয়েডের প্রচলন খুব বেশি।মানব শরীরে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে এর ব্যবহার হয়। কিছু বলবর্ধক ওষুধেও এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। আবার কোনও মরণাপন্ন রোগীকে সাময়িক ভাবে চাঙ্গা রাখার প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে থাকেন। এই ধরনের স্টেরয়েড দিনের পর দিন শরীরে প্রবেশ করতে থাকলে কিডনি ও লিভার আক্রান্ত হতে থাকে। আবার এর কু-প্রভাবে হরমোনাল ডিফরমিটি দেখা দেয়।

এ তো গেল জ্যান্ত মাছের কথা, মরা মাছও বাদ পড়ছে না রাসায়নিকের কবল থেকে। বাঙালি এই ধরনের মাছ কিনতে প্রথমেই নিজে হাতে দেখে নেন, সেটা শক্ত না নরম। শক্ত মানে টাটকা আছে এমন মনোভাব বুঝে নিশ্চিন্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। যে কারণে স্বাভাবিকত্ব বজায় রাখতে মাছে মিশছে ফরম্যালিন। এই রাসায়নিকটি পচন ধরানো ব্যাকটিরিয়াকে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। কী এই ফরম্যালিন?

অস্ত্রোপচারের কাজে প্রয়োজনীয় সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় ফরম্যালিনের দ্রবণ। আবার মৃত দেহের ব্যবচ্ছেদের সময় সেটিকে ভাল করে চুবিয়ে নেওয়া হয় এই ধরনের মিশ্রণে। ফরম্যাল ডিহাইড সেটিকে দীর্ঘক্ষণ জীবাণু-রহিত রেথে তাজা রাখে।অর্থাৎ ডাক্তারি পড়ুয়ারা যে ধরনের দ্রবণে চোবানো শবদেহের ব্যবচ্ছেদ করে থাকেন, আমরাও হয়তো কতকটা সে রকমেরই এক দ্রবণে চোবানো মাছ খেয়ে যত দ্রুত সম্ভব শবদেহে পরিণত হওয়ার পথে পাড়ি দিচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here