saibal-biswasশৈবাল বিশ্বাস :

অক্টোবর মাসের মধ্য‌ে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্য‌ সরকারকে প্রোমোটার নিয়ন্ত্রণের জন্য‌ আনা রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্য‌ান্ড ডেভেলপমেন্ট) আইন চালু করতে বললেও পশ্চিমবঙ্গে এই আইন এখনও বিশ বাঁও জলে। এই আইন চালু করতে হলে তার বিধি তৈরি করা দরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও বিধি তৈরি করার ব্য‌াপারে খুব একটা উদ্য‌োগ দেখায়নি। ফলে এ রাজ্য‌ে কবে প্রোমোটার নিয়ন্ত্রণ আইন চালু হবে তা কেউই সঠিক করে বলতে পারছেন না। ইতিমধ্য‌ে অরুণাচল প্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, মধ্য‌প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি আইনের বিধি তৈরি করে ফেলেছে। অর্থাৎ এই সব রাজ্য‌ে আইন চালু করার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই। হিমাচলপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল, কর্নাটক, ঝাড়খণ্ডেও আইন চালু করার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ড এবং পঞ্জাব জানিয়ছে, নির্বাচন শেষ হলেই তারা আইনের বিধি কার্যকর করবে। বড়ো রাজ্য‌ের মধ্য‌ে ব্য‌তিক্রম কেবল পশ্চিমবঙ্গ।

রাজ্য‌ের আবাসনমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্য‌ায় সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, বিধি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তা শেষ হলেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। কিন্তু আবাসনমন্ত্রীর কথার সঙ্গে বাস্তবের বেশ ফারাক রয়েছে। আসলে এই আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য‌ সরকারের বেশ ভালোমতো বিরোধ বেঁধে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় আইনের অন্তত দু’টি ধারা রাজ্য‌ তার বিধিতে বাদ দিতে চায়।

এই দু’টি ধারার একটি হল, ৫০০ বর্গমিটার জায়গায় আটটি ফ্ল্য‌াট হলে তা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি সংখ্য‌ক ফ্ল্য‌াট হলে এই আইনের আওতায় আসবে। রাজ্য‌ সরকার ছাড়ের সীমা আরও বাড়াতে চায়। আরও বড়ো আবাসন বা ফ্ল্য‌াটবাড়িকে তারা এই আইনের আওতার বাইরে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে এত বড়ো বিরোধ হলে তার মীমাংসা হওয়া খুবই কঠিন। এ ধরনের সমস্য‌া বিধির মাধ্য‌মে পালটানো সম্ভব নয়। প্রয়োজনে গোটা আইনটাই সংশোধন করে এর মীমাংসা করতে হবে। কিন্তু রাজ্য‌ের আর্জিতে কেন্দ্রীয় আবাসন ও দারিদ্র দূরীকরণ মন্ত্রক কোনো সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করেনি।

দ্বিতীয় ধারা হল, আইনে বলা হয়েছে, কমপ্লিশন সার্টিফিকেট না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত আবাসন প্রকল্পই এই আইনের আওতায় পড়বে। কিন্তু রাজ্য‌ সরকার চাইছে নির্মীয়মান সমস্ত আবাসন প্রকল্পকে যে কোনো ভাবে আইনের আয়ত্তের বাইরে নিয়ে যেতে।

কিন্তু রাজ্য‌ের এত গড়িমসির কারণ কী? আসলে এ রাজ্য‌ে প্রোমোটার-চক্রের একটা বড়ো অংশই রাজনীতি-নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে নির্মীয়মান আবাসন প্রকল্পগুলিতে রাজনৈতিক দলের পেটোয়া লোকজনের অবদান রয়েছে। সত্বর এই আইন চালু হলে তাঁরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়বেন। নতুন আইনে বলা আছে কমন প্য‌াসেজ বা সুপার বিল্ট আপ এরিয়াকে আদৌ এফেয়ার বা ফ্ল্য‌াটের জায়গা বলে দেখানো যাবে না। কিন্তু এ রাজ্য‌ে সব সময়ই সুপার বিল্ট আপ এরিয়াকে ক্রেতার অংশে ঢুকিয়ে হিসাব করা হয়। কী মাল দিয়ে আবাসন তৈরি হবে, কোথায় কতটা ছাড় দিতে হবে তার অঙ্কও স্পষ্ট করে আইনে বলা আছে। কিন্তু প্রোমোটাররা তা মানতে চান না। আইনে আরও বলা হয়েছে কোথাও যদি হিসাবনিকাশে কোনো গণ্ডগোল ধরা পড়ে তা হলে ক্রেতারা রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা পরবর্তীকালে আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। এখানেও প্রোমোটারকুলের প্রবল আপত্তি। কারণ আইনি লড়াইকে দীর্ঘায়িত করতে পারলে তাদেরই বেশি লাভ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here