প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা।

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৯৭৮-এ জন্ম এই ক্লাবের। দেখতে দেখতে ৪৪ বছরটা পেরিয়ে গেল। কলকাতার সাংবাদিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাব ৪৪ বছর পূর্ণ করল। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্ভীক সাহসী সাংবাদিক তৈরি করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য ক্লাবের কাছে আবেদন জানালেন বিধায়ক দেবাশিস কুমার।

রবিবার রবীন্দ্র সদনে ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের ৪৪তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিধায়ক দেবাশিস কুমার।  বিশেষ অতিথি ছিলেন আগরতলার খ্যাতিমান সাংবাদিক অমিত ভৌমিক।

উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন দেবাশিস কুমার। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার কৃতী ছাত্রছাত্রীরা যাতে আগামী দিনে সংবেদনশীল সাংবাদিক হতে পারে, যাতে তারা মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাজ করতে পারে, তার জন্য ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাব তাদের সম্মানিত করে স্বীকৃতি দিয়ে এই ব্যাপারে উৎসাহিত করে।

দেবাশিস কুমারকে বরণ করছেন ক্লাবের সভাপতি প্রান্তিক সেন (ডান দিকে) এবং সাধারণ সম্পাদক ইমন কল্যাণ সেন (বাঁ দিকে)।

মাননীয় বিধায়ক বলেন, যে কোনো দেশে গণতন্ত্রের একটা বড়ো স্তম্ভ সাংবাদিকরা। সাংবাদিকতায় যাঁরা আসেন তাঁরা জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে আসেন। তাঁরা তো অন্য কিছু হতে পারতেন, অনেক বড়ো চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা এই সাংবাদিকতায় আসেন ভালোবেসে, সমাজের কথা ভেবে আসেন।

ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের সদস্যদের কাছে দেবাশিসবাবুর বিনীত আবেদন, তারা যেন সাংবাদিকতার এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করেন, যাতে আগামী প্রজন্ম নির্ভীক হবেন, সাহসী হবেন, কোনো ভাবেই আপস করবেন না। চলার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসে। সে সব জয় করে এগিয়ে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসমের বরাক উপত্যকা এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করার ব্যাপারে জোর দেন বিশেষ অতিথি অমিত ভৌমিক।  

বিশিষ্ট অতিথিদের দিয়ে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। তার পর অতিথিদের বরণ করা হয়।  স্বাগত ভাষণ দেন ক্লাবের সভাপতি প্রান্তিক সেন। ক্লাবের প্রয়াত সহ-সভাপতি রাহুল গোস্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সভাপতি প্রান্তিক সেন বলেন, কাজ তো থেমে থাকে না, তাকে তো এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তিনি জানান, এ বারই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে পুরস্কার দেওয়া চালু হল। আর সেই পুরস্কার রাহুল গোস্বামীর নামাঙ্কিত।   

বিশেষ অতিথি অমিত ভৌমিককে বরণ করছেন ক্লাবের সহ-সভাপতি পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী ও কোষাধ্যক্ষ সাধনা দাস বসু।

এই অনুষ্ঠানে আগরতলার সাংবাদিক অমিত ভৌমিকের উপস্থিতি প্রসঙ্গে সভাপতি বলেন, আগামী দিনে কলকাতা, আগরতলা ও ঢাকা, এই তিনটি জায়গাকে সাংবাদিকতার মাধ্যমে এক সুত্রে বাঁধতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রেখে কিছু করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ক্লাবের বিভিন্ন উদ্যোগে যাঁরা পাশে থাকেন তাঁদের ধন্যবাদ জানান সাধারণ সম্পাদক ইমন কল্যাণ সেন। এঁরা ছাড়াও সে দিন অনুষ্ঠান-মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সহ-সভাপতি পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী, কোষাধ্যক্ষ সাধনা দাস বসু এবং দুই সহকারী সম্পাদক সঞ্জয় হাজরা ও অভিজিৎ ভট্টাচার্য।

এ দিন ক্লাবের মুখপত্র ‘সাংবাদিক’-এর ৪৪তম বার্ষিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। এ প্রসঙ্গে ক্লাবের সাংবাদিক ও প্রকাশনা উপসমিতির আহ্বায়ক শম্ভু সেন আগামী দিনে ক্লাবের তরফে প্রকাশনার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা জানান।  

বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারী রাজেশ্বরী দাসকে দেওয়া হয় সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার। ড. স্মরজিৎ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার পান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারী সিলভিয়া বসু। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারী দীপিকা মণ্ডলকে নিরঞ্জন সেনগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারী রাই গুছাইতকে দেওয়া হয় বরুণ সেনগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর সাংবাদিকতায় প্রথম স্থানাধিকারী আওয়াইস খানকে রাহুল গোস্বামী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সম্মানিত হয়ে নিজের অনুভূতির কথা বলছেন বর্ষীয়ান সদস্য পার্থ গোস্বামী।

ক্লাবের বর্ষীয়ান সদস্য পার্থ গোস্বামীকে দক্ষিণারঞ্জন বসু স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়। অমিত চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হল উদীয়মান অ্যাথলিট কর্ণ বাগকে।

এ ছাড়াও যে সব ক্লাব সদস্যের ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনি উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় ভালো ফল করে, তাদের দেওয়া হয় ক্লাবের প্রয়াত প্রাক্তন সভাপতি হিমাংশু চট্টোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত স্মৃতি পুরস্কার এবং যারা মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় ভালো ফল করে, তাদের দেওয়া হয় ক্লাবের প্রয়াত প্রাক্তন সদস্য অভীক বসুর নামাঙ্কিত স্মৃতি পুরস্কার।

বিশিষ্ট উদ্যোগপতি ব্লু চিপ প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঋত্বিক দাস বিভিন্ন উদ্যোগে সব সময় ক্লাবের পাশে থাকেন। এ বারেও তার অন্যথা হয়নি। ক্লাব ফান্ডে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি ক্লাবকে সাহায্য করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল দেব চৌধুরী পরিচালিত ‘সহজিয়া’ ফোক ব্যান্ডের লোকসংগীত পরিবেশন। টানা দু’ ঘণ্টা উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকদের আবেশে ভরিয়ে রাখেন দেব ও তাঁর সঙ্গীরা।   

আরও পড়তে পারেন

ফুসফুসে সংক্রমণ, প্রয়াত ‘জন অরণ্য’ অভিনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়

‘আমরা সবাই চোর আর ওঁরা সব সাধু’? সভা থেকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২০০২ হিংসা মামলা: এক প্রবীণ নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিস্তা শেতালওয়াড়, সুপ্রিম কোর্টে বলল গুজরাত সরকার

৫জি পরিষেবা ঘোষণা করল রিলায়েন্স জিও, দীপাবলিতেই চালু হয়ে যাবে কলকাতা-সহ ৪ শহরে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন